Tuesday, February 10, 2026

কিয়েভে রুশ ড্রোন হামলা ও তীব্র শীতে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষ


ছবিঃ ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের কিয়েভে সরকারের পরিচালিত একটি মানবিক সহায়তা কেন্দ্রে স্থাপিত তাঁবুর ভেতরে গরম খাবারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন বাসিন্দারা। সেখানে মানুষ শরীর গরম করতে, ইলেকট্রনিক যন্ত্র চার্জ দিতে, গরম পানীয় পেতে এবং মানসিক সহায়তা গ্রহণ করতে পারছেন। (সংগৃহীত | আল জাজিরা । আনাতোলি স্তেপানোভ/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

রাশিয়ার অব্যাহত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি প্রচণ্ড শীত ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি রাতে কিয়েভের পূর্বাঞ্চলে একটি আবাসিক ভবনে রুশ ড্রোন আঘাত হানলেও প্রাণহানি হয়নি। তবে হামলার ভয়াবহতা ও তার পরিণতি স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনে গভীর ছাপ ফেলেছে।

১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার পরদিন রাতে ওই হামলার সময় নিজের ফ্ল্যাটের বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন কিশোরী তাইরা স্লুইসারেনকো। তিনি জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনের উপরের তলার জানালা ও বাইরের দেয়াল ভেঙে পড়ে। যদিও তিনি শারীরিকভাবে অক্ষত ছিলেন, তবে ঘটনার পর ইউক্রেন ছাড়ার চিন্তাও মাথায় আসে তাঁর।

হামলার মাত্র আধা ঘণ্টা পর একই এলাকায় দ্বিতীয় একটি ড্রোন আঘাত হানে, যা উদ্ধারকাজে থাকা জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের লক্ষ্য করে করা হয় বলে অভিযোগ। এতে এক চিকিৎসাকর্মী নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন। ওই রাতে রাশিয়া মোট ২৪২টি ড্রোন ও ৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এসব হামলায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শীতের তীব্রতায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ও গরম পানির অভাবে মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অনেক এলাকায় হাইপোথারমিয়ায় মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যেগুলো স্থানীয়ভাবে ‘সাদা মৃত্যু’ নামে পরিচিত।

জাতিসংঘ ও শিশু সহায়তা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, নবজাতক ও শিশুরা এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। পর্যাপ্ত উষ্ণতা ও চিকিৎসাসেবা না পেলে তাদের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

কিয়েভের উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় কেন্দ্রীয় হিটিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। দিনে মাত্র এক–দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ আসে, তাও নির্দিষ্ট সময় ছাড়া। অনেক বাসিন্দা বাধ্য হয়ে শহর ছাড়ছেন। কিয়েভের মেয়র জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে প্রায় ছয় লাখ মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামাঞ্চলে চলে গেছে, যেখানে কাঠ বা কয়লার চুলায় গরমের ব্যবস্থা করা সম্ভব।

তবে সব প্রতিকূলতার মধ্যেও উদ্ধারকর্মী ও সামরিক মেডিকেল ইউনিটগুলো সাধারণ মানুষকে সহায়তার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও সেনাবাহিনীর তাঁবু স্থাপন করে কাঠের চুলায় গরমের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং বিনা মূল্যে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

নিরবচ্ছিন্ন হামলা, শীত ও অনিশ্চয়তার মাঝেও ইউক্রেনের মানুষ টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে—এই বাস্তবতাই এখন দেশটির নিত্যদিনের চিত্র।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন