Monday, May 25, 2026

রোবোট্যাক্সি সংকট, টেসলা-স্পেসএক্স সম্পর্ক ও প্রযুক্তি খাতে নতুন সমীকরণ


ছবিঃ গাড়ি (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

বিশ্বজুড়ে স্বয়ংচালিত যান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে নতুন সম্ভাবনা ও জটিল বাস্তবতা। সাম্প্রতিক সময়ে রোবোট্যাক্সি পরিচালনা, স্পেসএক্সের আইপিও, টেসলার প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির উন্নয়ন নিয়ে প্রযুক্তি ও পরিবহন খাতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্বয়ংচালিত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েমো যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহরে সাময়িকভাবে তাদের রোবোট্যাক্সি সেবা সীমিত করেছে। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও সড়ক নির্মাণকাজের মতো পরিস্থিতিতে গাড়িগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন ও সান অ্যান্টোনিওর পর অস্টিন ও ন্যাশভিলেও কিছু সেবা স্থগিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ওয়েমোর দাবি, তাদের যানবাহন এখনো কিছু জটিল বাস্তব পরিস্থিতি যথাযথভাবে শনাক্ত করতে সমস্যায় পড়ছে। বিশেষ করে কোন রাস্তা এড়িয়ে চলতে হবে, তা নির্ধারণে সফটওয়্যার আরও উন্নত করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া সান ফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিনিক্স ও মায়ামিতে মহাসড়কে রোবোট্যাক্সি চলাচলও সীমিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। নির্মাণাধীন সড়কে পারফরম্যান্স উন্নয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোবোট্যাক্সি এখন বাস্তবতা হলেও প্রযুক্তিটি এখনো পরীক্ষামূলক ও পরিবর্তনশীল পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে এলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স–এর আইপিও নথি প্রকাশের পর তাঁর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক আর্থিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

নথিতে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে স্পেসএক্স টেসলার কাছ থেকে প্রায় ৫০৬ মিলিয়ন ডলারের মেগাপ্যাক শক্তি সংরক্ষণ ব্যবস্থা কিনেছে। পাশাপাশি সাইবারট্রাক কেনার পেছনেও ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৩১ মিলিয়ন ডলার।

এ ছাড়া মাস্কের অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান বোরিং কোম্পানি–কে টানেল নির্মাণ বাবদ অর্থ প্রদান করেছে স্পেসএক্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–ও একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অফিস স্পেস ভাড়া নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, টেসলা, স্পেসএক্স, এক্সআই এবং এক্স—সব প্রতিষ্ঠান এখন এক ধরনের আন্তঃনির্ভরশীল প্রযুক্তি নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। 

স্বচালিত যান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মে মোবিলিটি চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Ecarx–এর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব করেছে। চুক্তির আওতায় Ecarx হাজার হাজার রোবোট্যাক্সি যানবাহন সরবরাহ করবে।

প্রাথমিকভাবে আগামী বছর পরীক্ষামূলকভাবে সেবা চালু করা হবে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে বাণিজ্যিক পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রকল্পের সম্ভাব্য মূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় ৭৫ কোটি ডলার।

অন্যদিকে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্টেলান্টিস জানিয়েছে, তারা ২০২৮ সাল থেকে Wayve–এর স্বচালিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে হ্যান্ডস-ফ্রি ড্রাইভিং সুবিধা চালু করবে।

টেসলার Full Self-Driving (FSD) প্রযুক্তি এখন ইউরোপের লিথুয়ানিয়াতেও অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে ইউরোপে দ্বিতীয় দেশের বাজারে প্রবেশ করল এই প্রযুক্তি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে এফএসডি সম্প্রসারণ টেসলার ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলন মাস্কের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্যও এই প্রযুক্তির সফলতার সঙ্গে জড়িত।

বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা Nissan তাদের জনপ্রিয় Leaf মডেলের নতুন সংস্করণ বাজারে আনছে। ২০২৬ সালের Nissan Leaf Platinum+ সংস্করণে আগের তুলনায় উন্নত ব্যাটারি, আধুনিক অভ্যন্তরীণ নকশা এবং উন্নত প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে।

নতুন সংস্করণটির সম্ভাব্য চালনাসীমা প্রায় ২৫৯ মাইল। উচ্চ সংস্করণগুলো এক চার্জে ৩০০ মাইলের বেশি চলতে পারবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গাড়িটিতে যুক্ত হয়েছে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, ওয়্যারলেস Apple CarPlay ও Android Auto, অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল এবং বড় আকারের ডিজিটাল ডিসপ্লে।

এদিকে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও পরিবহন স্টার্টআপেও বড় বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। বৈদ্যুতিক ট্রাভেল ট্রেইলার নির্মাতা Aboard নতুন বিনিয়োগ পেয়েছে ১৩ মিলিয়ন ডলার। একইভাবে ভারতীয় ট্রাভেল বুকিং স্টার্টআপ Scapia পেয়েছে ৬৩ মিলিয়ন ডলারের তহবিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বয়ংচালিত যান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৈদ্যুতিক পরিবহন প্রযুক্তি আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন