- ২০ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। রাজশাহী
রাজশাহীর মতিহার থানার বিনোদপুর বাজারে খাবার সরবরাহে বিলম্বকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় দুটি খাবারের হোটেল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এক ব্যক্তি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিনোদপুর বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খেতে যান। খাবার শেষে তিনি অতিরিক্ত কিছু খাবার পার্সেল হিসেবে নেওয়ার জন্য অর্ডার দেন। তবে খাবার প্রস্তুত করতে কিছু সময় লাগবে বলে জানালে কর্মচারীদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।
এর কিছু সময় পর একদল যুবক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই রেস্তোরাঁয় হামলা চালায়। হামলাকারীরা আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়, ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একই সময় কাছাকাছি আরেকটি খাবারের দোকানেও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা তাদের লক্ষ্য করেও বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দিনসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত ফয়েজ উদ্দিনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন হোটেল কর্মচারীও আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত একটি রেস্তোরাঁর মালিক বলেন, সামান্য ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে এমন সহিংস হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। হামলাকারীরা শুধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরই চালায়নি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করেও বিস্ফোরক নিক্ষেপ করেছে।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাবি করেন, পার্সেল অর্ডার নিয়ে কথা কাটাকাটির সময় হোটেলের কিছু কর্মচারী তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে বুঝতে পেরে তিনি সেখান থেকে চলে যান। পরবর্তীতে কারা হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তার কোনো জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ বলছে, হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।