Wednesday, August 5, 2026

রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপের বিকল্প নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী


ফাইল ছবিঃ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা আকস্মিকভাবে তৈরি হয়নি; দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট ও পারস্পরিক দূরত্ব বাড়তে বাড়তেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় তিনি বলেন, বিভিন্ন বিরোধী দল নিজেদের দাবি ও অধিকার আদায়ে রাজপথে কর্মসূচি পালন করছে। অন্যদিকে সরকারও নিজেদের রাজনৈতিক কার্যক্রম ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনড় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আলোচনায় বসা জরুরি।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিক বিরোধ নিরসনে সহিংসতা কিংবা সংঘাত কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। জনগণের প্রত্যাশা ও দেশের সামগ্রিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সাক্ষাৎকারে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির সম্পর্ক এবং জুলাই পদযাত্রায় দলটির অংশ না নেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে এনসিপির এই নেতা জানান, রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকে তিনি ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শে পরিবর্তন আসায় তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বর্তমানে এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

তিনি বলেন, মাদ্রাসায় পড়াশোনার সময় অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার তেমন সুযোগ না থাকায় তিনি ছাত্রশিবিরের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক চিন্তা ও আদর্শে পরিবর্তন আসার পর তিনি নতুন রাজনৈতিক পথ বেছে নেন।

বিএনপির সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতার প্রসঙ্গ তুলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সংস্কারকে ভিত্তি করে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো ছিল এনসিপির প্রথম পছন্দ। তবে সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির সম্মতি না পাওয়ায় তারা এমন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়, যারা সংস্কারের বিষয়ে একমত ছিল।

জামায়াতে ইসলামীর একজন সংসদ সদস্যকে ঘিরে ওঠা ‘মোরাল টারপিচিউড’ বা নৈতিক স্খলনের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই অভিযোগের ব্যাখ্যা দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্ব। তবে নীতিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য বা নেতা নৈতিক স্খলনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে দলীয় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সৎ, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সামনে আনা উচিত।

রাজনীতিতে আদর্শের পাশাপাশি বাস্তব প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, কেবল কাগজে-কলমে কোনো রাজনৈতিক দর্শন সুন্দর হলেই তা সফল হয় না। বাস্তব রাজনীতিতে সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে না পারলে সেই রাজনীতির সীমাবদ্ধতা থেকেই যায়।

তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্বশীলতা ও কার্যকর সংলাপ প্রয়োজন।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন