Wednesday, October 14, 2026

ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সরকারের পরিণতি ভয়াবহ হবে: শিবির সভাপতি সাদ্দাম


ছবিঃ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ওঠা হামলা, ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ বন্ধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এর পরিণতি আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

বুধবার (৫ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘ছাত্র গণজমায়েতে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, বিভিন্ন গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ এবং দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সমাবেশের আগে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আসেন।

নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে সংঘাত ও সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

তার অভিযোগ, ছাত্রদলের নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের অনেকেই নিয়মিত শিক্ষার্থী নন। বহিরাগত এবং দীর্ঘদিন আগে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া ব্যক্তিদেরও এসব কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শিবির সভাপতি আরও অভিযোগ করেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি রাতে ঘুমন্ত শিক্ষার্থী ও সাধারণ ছাত্রদেরও হামলার শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ওঠা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তা না হলে ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, “ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের লাগাম টেনে ধরুন। তা না হলে ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি সন্ত্রাসীর লাগাম টেনে ধরা হবে। ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে এই সরকারের পরিণতি আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ হবে।”

সাদ্দামের অভিযোগ, বিভিন্ন হামলার বিষয়ে সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বারবার জানানো হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কোনো কোনো ঘটনায় পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ক্যাম্পাসে হল দখল, গণরুম ও গেস্টরুমের পুরোনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্রশিবির সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহাবস্থান ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। তবে ভবিষ্যতে কোনো ক্যাম্পাসে রক্তপাতের ঘটনা ঘটলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।

সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তারা আশা করেছিলেন শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরবে এবং মেধা ও গবেষণার চর্চা বাড়বে। কিন্তু সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, ক্যাম্পাস দখল এবং চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির পুরোনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির আদর্শ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে ছাত্রদলকে পরাজিত করেছে। রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রতিযোগিতায় ব্যর্থ হয়েই ছাত্রদল সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সমাবেশে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের উদ্দেশে অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর বহিরাগত ও সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম এমপি বলেন, অতীতে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে গণআন্দোলনকে ভিন্ন পথে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তবে সংগঠনটি ধৈর্য ও কৌশলের সঙ্গে গণআন্দোলনে ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করেন তিনি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের বিরোধের পেছনে মূল কারণ মেধাভিত্তিক রাজনীতি নয়; বরং ক্যাম্পাসে টেন্ডারবাজি ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা।

তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি কিংবা জোরপূর্বক হল ও আসন দখলের সুযোগ দেওয়া হবে না। ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণে আনতে বিএনপির নেতৃত্বের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত এ ছাত্র গণজমায়েতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর শাখার নেতারা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এবং বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন