Monday, August 3, 2026

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে চাপ বাড়াতে বিভাগভিত্তিক লংমার্চের ভাবনায় ১১ দলীয় জোট


ছবিঃ ১১-দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক। রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে। ৩০ জুলাই ২০২৬ (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে নতুন ধাপে নিতে বিভাগভিত্তিক লংমার্চের পরিকল্পনা করছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। চলতি মাসের শেষ দিকে এ কর্মসূচি শুরু করার প্রস্তাব জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে উঠে এসেছে।

জোটসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ২৯ অথবা ৩০ আগস্ট লংমার্চ কর্মসূচি শুরু করার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে আন্দোলনের পরবর্তী ধাপের কর্মসূচি ও কৌশলও নির্ধারণ করা হতে পারে।

জোটের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বিভাগভিত্তিক লংমার্চের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় পথসভা ও জনসভা, রাজধানীতে মহাসমাবেশ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার ও আহতদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির প্রস্তাব রয়েছে।

জোটের নেতাদের মতে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানো হবে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা থাকবে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই সাংবিধানিক সংস্কারের লক্ষ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করছে ১১ দলীয় ঐক্য। সর্বশেষ গত ২৫ জুলাই বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচি শেষ করে জোটটি।

এরপর আন্দোলনের নতুন ধাপ নির্ধারণে গত ৩০ জুলাই রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে বৈঠক করে জোটের লিয়াজোঁ কমিটি। ওই বৈঠকে বিভাগভিত্তিক লংমার্চ, লংমার্চ চলাকালে পথসভা ও জনসভা, রাজধানীতে মহাসমাবেশ, জাতীয় সেমিনার এবং গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে আলোচনা সভার প্রস্তাব ওঠে।

জোটসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে কর্মসূচির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর আগামী ৫ আগস্ট রাজধানীর পল্টনে পূর্বঘোষিত সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন বলেন, লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে লংমার্চ কর্মসূচি গ্রহণের একটি প্রস্তাব এসেছে। জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর কর্মসূচির সময়সূচি ও রুট নির্ধারণ করা হবে।

জোটের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ঢাকা থেকে খুলনা, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে পৃথক লংমার্চ আয়োজন করা হতে পারে। লংমার্চের পথজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা ও জনসভা করার চিন্তাও রয়েছে।

জোটের নেতারা মনে করছেন, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব হবে। প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার পর রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে একই ধরনের কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে আগামী অক্টোবর রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের একটি মহাসমাবেশ করার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ছিল। তবে লংমার্চ কর্মসূচি চূড়ান্ত হলে মহাসমাবেশটি নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে বলে জোটসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জোটের নেতারা দীর্ঘ সময় মাঠে থেকে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান। এ কারণে একাধিক ধাপে কর্মসূচি সাজানোর চিন্তা করা হচ্ছে।

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন জোটের আন্দোলনের প্রধান দাবি হলেও কর্মসূচিতে জনজীবন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ও গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

তাদের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, লোডশেডিং, গ্যাসসংকট, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং জনভোগান্তির মতো বিষয়গুলো কর্মসূচিতে তুলে ধরা হতে পারে।

জোটের নেতাদের ধারণা, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিগুলো সামনে আনলে আন্দোলনের সামাজিক ভিত্তি আরও বিস্তৃত হবে।

তারা আরও জানান, সাম্প্রতিক বিভাগীয় কর্মসূচিগুলোতে ১১ দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার আরও বড় পরিসরে মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে জোটের সাংগঠনিক তৎপরতা ধরে রাখার বিষয়টিও কর্মসূচি নির্ধারণে গুরুত্ব পাচ্ছে।

জোটভুক্ত একটি দলের শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, সরকারবিরোধী আন্দোলন হলেও কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকবে। জোট হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও বা সহিংস কর্মসূচির পথে যাবে না। শান্তিপূর্ণ গণ-আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয়তা বাড়ানোর পাশাপাশি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে চায় ১১ দলীয় ঐক্য।

জোটসংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের পর ধারাবাহিক কর্মসূচিতে মাঠপর্যায়ে সাড়া পাওয়া গেলেও সরকার এখনো তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ কারণে আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর পর্যায়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জোটের ধারাবাহিক কর্মসূচিতে মানুষের সাড়া পাওয়া গেছে। তবে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, “এ কারণে আন্দোলনকে নতুন ধাপে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। লংমার্চ ও মহাসমাবেশসহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচির প্রস্তাব রয়েছে। শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলে সেগুলো পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করা হবে।”

জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার পরই বিভাগভিত্তিক লংমার্চসহ আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচির সময়সূচি ও রূপরেখা প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন