- ২৩ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। নোয়াখালী
প্রাইভেট পড়তে গিয়ে শিক্ষিকার নিজ বাড়িতেই পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রী (১৩)। উপজেলার চরজব্বর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষক-পিতাকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম কামাল উদ্দিন (৫৫)। সে স্থানীয় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক এবং অভিযুক্ত গৃহশিক্ষিকার বাবা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকালে অন্যদিনের মতোই শিক্ষিকার বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যায় ওই কিশোরী। তবে ঘরে গিয়ে সে দেখতে পায় তার শিক্ষিকা উপস্থিত নেই। এই সুযোগে শিক্ষিকার বাবা কামাল উদ্দিন কৌশল করে ওই ছাত্রীকে ঘরের ভেতর ডেকে নেয় এবং জোরপূর্বক তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। ঘটনাটি চাপা দিতে এবং পুলিশকে না জানাতে ভুক্তভোগীকে ৫০০ টাকা হাতে দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে বিদায় করে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়।
বাড়ি ফিরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া কিশোরী তার পরিবারের কাছে ঘটনার আদ্যোপান্ত খুলে বলে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা একই দিন সন্ধ্যায় কামাল উদ্দিনকে ধরে ফেলে। পরে তাকে গাছে বেঁধে রেখে গণধোলাই দেওয়া হয়। খবর পেয়ে চরজব্বর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
ঘটনার দিন রাতেই নির্যাতিত ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চরজব্বর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করেছে। আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গ্রেফতারকৃতকে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে এবং ভুক্তভোগী ছাত্রীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।"
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।