Sunday, August 2, 2026

পাঁচ বছরের মধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপের পরিকল্পনা: ইউজিসি চেয়ারম্যান


ছবিঃ ইবির সেন্ট্রাল ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। শিক্ষাজীবনের নির্দিষ্ট সময় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও বিভিন্ন সেবাখাতে কাজের মাধ্যমে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। ইন্টার্নশিপকালীন তাদের পারিশ্রমিকের আওতায় আনার কথাও ভাবছে কমিশন।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যা কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ লক্ষ্যেই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ধাপে ধাপে ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, শিক্ষাজীবনের দুই, তিন কিংবা চার মাস—ইন্টার্নশিপের সময়কাল কত হবে, তা পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে। ওই সময়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।

তিনি জানান, ইন্টার্নশিপ কেবল উৎপাদনশিল্পে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সেবাখাত, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নশিপ করতে পারবেন। শিক্ষার্থী থাকা অবস্থাতেই কাজের পরিবেশ ও পেশাগত দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সনদ অর্জনের জায়গা নয়; এটি দক্ষতা তৈরিরও জায়গা। শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে, এমনভাবে তাদের গড়ে তুলতে হবে।”

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও আনন্দময় ক্যাম্পাসজীবন নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সরকার ও ইউজিসি একসঙ্গে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা শেষে প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন প্রয়োজনীয় সফট স্কিল নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ডিজিটাল দক্ষতা ও যোগাযোগ সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল লিটারেসি ও কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্তত একটি অতিরিক্ত ভাষায় যোগাযোগের সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন তিনি।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা প্রয়োজন। এসব দক্ষতা ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে তাদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করবে।

সমতা ও বৈষম্যহীন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকার সমঅধিকারে বিশ্বাসী। ভবিষ্যতে সমান সুযোগ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তরুণদের যেন আর কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা সচেতন রয়েছেন।

ডিজিটাল রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠলে দেশের যেকোনো প্রান্তে বসেই শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, “ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বাস্তবায়ন হলে কুষ্টিয়ায় বসেও বিশ্বের যেকোনো উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা যুক্ত থাকা সম্ভব হবে। তখন দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে আর প্রান্তিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।”

আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীরা আরও দক্ষ, যোগ্য ও কর্মক্ষেত্রের উপযোগী গ্র্যাজুয়েট হিসেবে গড়ে উঠবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী এবং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্ক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম শাহ।

অনুষ্ঠানে ওরিয়েন্টেশন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন