- ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। বরিশাল
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) একটি অ্যাসাইনমেন্টের কভার পেজে শিক্ষকের নামের ইংরেজি বানান ভুল লেখাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ৩২ শিক্ষার্থীকে নিজ শিক্ষকের সঠিক নামের বানান ৩০০ বার লিখে আনার নির্দেশ দেওয়ার ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসা উন্নয়ন’ বাংলাদেশের উদ্যোগের ‘গ্রোথ অব এন্টারপ্রেনারশিপ ইন বাংলাদেশ’ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছিল। গত ২৯ জুলাই অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার পর খাতা মূল্যায়নের সময় বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মরিয়ম হাসনার নজরে আসে, কয়েকজন শিক্ষার্থী কভার পেজে কোর্স শিক্ষকের নামের ইংরেজি বানান ভুল লিখেছেন।
শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের নাম ‘Morioum Hasna’ লেখার পরিবর্তে ‘Morium Hasna’ লিখেছিল। পরে আরও কয়েকটি অ্যাসাইনমেন্ট যাচাই করে একই ভুল ৩২টি খাতায় পাওয়া যায়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, একজনের অ্যাসাইনমেন্টের কভার পেজ দেখে অন্যরা সেটি অনুসরণ করায় একই ভুল একাধিক খাতায় চলে আসে। ভুল স্বীকার করে তারা অ্যাসাইনমেন্ট পুনরায় জমা দেওয়ার সুযোগ চাইলেও শিক্ষক প্রথমে তা গ্রহণ করেননি। পরে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে ৫০০ বার লেখার পরিবর্তে ৩০০ বার সঠিক বানান লিখে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সহকারী অধ্যাপক মরিয়ম হাসনা বলেন, একটি আনুষ্ঠানিক একাডেমিক নথিতে কোর্স শিক্ষকের নামের বানান ভুল হওয়াকে তিনি দায়িত্বশীলতার ঘাটতি হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে চাকরি বা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নামের সঠিক বানান ব্যবহারের গুরুত্ব বুঝতে পারে—এই উদ্দেশ্যেই তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, একই ভুল যদি এক বা দুইজন করত, তাহলে আলাদাভাবে বুঝিয়ে বলা যেত। কিন্তু একটি ব্যাচের ৫৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩২ জন একই ভুল করায় বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করা প্রয়োজন মনে হয়েছে।
তবে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয় বলে জানান ওই শিক্ষক। তিনি বলেন, একটি শ্রেণিকক্ষের বিষয় এভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেবে, তা তিনি ভাবেননি। বিভিন্ন পেজে তাঁর ছবি ব্যবহার করে পোস্ট করা এবং অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসায় ব্যক্তিগতভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এদিকে, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম সাইদের একটি পোস্টের মাধ্যমে। তিনি জানান, বিষয়টি শেয়ার করার উদ্দেশ্য ছিল ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা তুলে ধরা, শিক্ষককে অসম্মান করা নয়।
সাইদুল বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে এবং পুনরায় অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। পরে শিক্ষকের নির্দেশ অনুযায়ী তারা ৩০০ বার সঠিক বানান লিখে জমা দিয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের বানানের বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন, আবার অনেকে ভুলের জন্য শাস্তির পরিবর্তে বোঝানোর মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মো. শহীদুল্লা কায়সার এক ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেন, নামের সঠিক বানান গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ ধরনের ভুলের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে বলা বেশি কার্যকর হতে পারে।
শিক্ষাবিদদের মতে, একাডেমিক লেখালেখিতে নির্ভুলতা ও দায়িত্বশীলতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়ায় সংশোধন ও দিকনির্দেশনার ভারসাম্য বজায় রাখাও জরুরি।