- ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। পাবনা
দুই শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে জোর করে ভিডিও ধারণ, ৫০ হাজার টাকা দাবি এবং তাঁদের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) পাঁচ শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের রাসেল আহমেদ ও মো. ফয়সাল আহমেদ এবং স্থাপত্য বিভাগের মো. শোয়েব উল হক, মাহমুদ হাসান ও আবদুল্লাহ তাইয়্যেব তকি।
অন্যদিকে, কারণ দর্শানোর নোটিশের জন্য চিহ্নিত চার শিক্ষার্থী হলেন ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ফয়সাল ইকবাল হিরন ও ঋতু সরকার এবং স্থাপত্য বিভাগের ইব্রাহিম খলিল ও রিয়াদ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অ্যাকাডেমিক ভবন-৩-এর ষষ্ঠ তলায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় ৭৭.২৭ নম্বর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এ শাস্তি অনুমোদন করা হয়।
বহিষ্কৃত পাঁচ শিক্ষার্থীকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে মা-বাবাসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে মুচলেকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর বাকি চার শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের বিষয়ে আরও তদন্ত করতে কমিটি গঠন করা হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ আগস্ট সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন-৩-এর ষষ্ঠ তলায় ডিন অফিসের একটি কক্ষে আইসিই বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখার অভিযোগ তোলেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দুই শিক্ষার্থীকে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের একজনকে মারধর, জোর করে ভিডিও ধারণ, ৫০ হাজার টাকা দাবি এবং মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ হিরনের অভিযোগ, তাঁরা দুজন কক্ষের ভেতরে থাকাকালে বাইরে থেকে দরজা আটকে দেওয়া হয়। এ সময় তাঁকে জোর করে ভিডিওতে কথা বলতে বাধ্য করা হয় এবং মারধর করা হয়। ঘটনার পর ওই রাতেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিকে বিষয়টি জানান এবং লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
লিখিত অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা দাবি এবং তাঁর মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ওই রাতেই সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি শোয়েব উল হক স্বীকার করলেও ল্যাপটপ নেওয়ার অভিযোগ কেউ স্বীকার করেননি। তবে পরদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আনসার সদস্যের মাধ্যমে ল্যাপটপটি প্রক্টর অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার তদন্তে সংগৃহীত তথ্য, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদন এবং শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশ পর্যালোচনা করেই পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি চার শিক্ষার্থীর বিষয়ে তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।