Sunday, October 18, 2026

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় তিন সিলেবাস, ফরম পূরণে যেসব নির্দেশনা মানতে হবে


ফাইল ছবিঃ এসএসসি পরীক্ষার্থী (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা

২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। আগামী বছরের পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে তিন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে পরীক্ষার্থীর ধরন অনুযায়ী সিলেবাস ও প্রশ্নপত্রের নিয়মে ভিন্নতা থাকবে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে ফরম পূরণসংক্রান্ত এসব নির্দেশনা জানানো হয়। এতে পরীক্ষার সিলেবাস, জিপিএ উন্নয়ন, বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থী এবং আগের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের শর্তসহ বিভিন্ন বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে।

বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ওই বছরের নির্ধারিত সিলেবাস অনুসারে তৈরি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে হবে। অন্যদিকে, অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, আগে অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি শিক্ষাবর্ষের সিলেবাস অনুসরণের সুযোগ ছিল। এবার দুটি শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হলেও জিপিএ-৫-এর কম পাওয়া শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকলে ২০২৭ সালের পরীক্ষায় জিপিএ উন্নয়নের সুযোগ পাবে। এ ক্ষেত্রে তাদের ২০২৬ সালের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস অনুযায়ী সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে।

জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষায় আগের ফলাফলের চেয়ে ভালো ফল করলে নতুন ফল গ্রহণ করা হবে। তবে উন্নতি না হলে আগের জিপিএ বহাল থাকবে। এ ধরনের পরীক্ষার্থীদের আগের পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের সত্যায়িত ফটোকপি ফরম পূরণের প্রিন্ট কপির সঙ্গে জমা দিতে হবে।

বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বোর্ড জানিয়েছে, বহিষ্কারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এবং রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ বহাল থাকলে তারা ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে তাদের সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে।

এ ছাড়া ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে নিবন্ধিত যেসব শিক্ষার্থী ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তারা ২০২৭ সালে অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে চতুর্থ বিষয়সহ সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে।

এই দুই শিক্ষাবর্ষের নিবন্ধিত যেসব শিক্ষার্থী ২০২৫ বা ২০২৬ সালের পরীক্ষায় সব বিষয়ে অংশ নিয়ে চতুর্থ বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে, কিন্তু এক থেকে চারটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তারাও নির্ধারিত শর্তে সুযোগ পাবে। তারা আগের পরীক্ষায় অকৃতকার্য বিষয় বা বিষয়গুলোতে অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হলে চতুর্থ বিষয়ের সুবিধা পাবে।

শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার এডুকেশন বিষয়ে সব শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষার্থীদের নম্বর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নির্দেশনা অনুযায়ী ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ধারাবাহিক মূল্যায়নে পাওয়া নম্বর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠাতে হবে। এরপর পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নের নম্বর যুক্ত করে বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে পাঠাবে। পাশাপাশি ব্যবহারিক ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের মূল হাতে লেখা নম্বরপত্র মাধ্যমিক পরীক্ষা শাখায় সরাসরি জমা দিতে হবে।

বোর্ডের নির্দেশনায় নির্বাচনী পরীক্ষার বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থী এবং এর আগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের বাইরে অন্য সব শিক্ষার্থীর জন্য নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক।

ফলে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের আগে নিজেদের নিবন্ধনের মেয়াদ, পরীক্ষার্থীর ধরন, প্রযোজ্য সিলেবাস এবং বোর্ডের অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন