Friday, July 24, 2026

পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে শত শত একর ফসলি জমিতে বালুর স্তর, দিশেহারা কৃষক


ছবিঃ কেউ কেউ আবার এসব জমিতে আবাদ করাই ছেড়ে দিয়েছেন (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। শেরপুর

টানা পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার ধাক্কায় শেরপুরের সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখন বালুর চাদরে ঢেকে গেছে। একের পর এক ঢলে নদীভাঙন, ফসলের ক্ষতি এবং বসতবাড়ি প্লাবিত হওয়ার পর নতুন করে জমিতে পুরু বালুর স্তর জমে পড়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। অনেকেই বলছেন, এ অবস্থায় জমি আবার আবাদযোগ্য করতে যে ব্যয় প্রয়োজন, তা তাদের সামর্থ্যের বাইরে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছর ভোগাই, চেল্লাখালী, মহারশী ও সোমেশ্বরী নদীতে অন্তত চার দফা পাহাড়ি ঢল নামে। সর্বশেষ ঢলের পানি কমে যাওয়ার পর দেখা যায়, বহু কৃষিজমি বালুতে ঢেকে গেছে। এতে আসন্ন আমন মৌসুমে চাষাবাদ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপার ইউনিয়নের গোল্লারপাড় এলাকায় চেল্লাখালী নদীর তীরঘেঁষা অন্তত ২০ থেকে ৩০ একর জমিতে বালুর স্তর জমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। কৃষক আমির হোসেন, আলীম, লিটন, নূরুল আমিন, রাজু ও উসমান গণির মতো অনেকেরই জমি এখন কার্যত চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভাষ্য, শুধু চলতি মৌসুমের ফসলই নয়, জমির উর্বরতাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বালু সরিয়ে পুনরায় চাষাবাদ শুরু করতে প্রয়োজন হবে অতিরিক্ত শ্রম ও অর্থ, যা অধিকাংশ কৃষকের পক্ষে জোগাড় করা কঠিন। ফলে কেউ কেউ জমি অনাবাদি রাখার কথাও ভাবছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, চেল্লাখালী নদীর গোল্লারপাড় এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে প্রতিবছর একই ধরনের দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে। তারা দ্রুত বাঁধ সংস্কারের দাবি জানিয়ে বলেছেন, স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে সামনের দিনগুলোতেও একই ক্ষয়ক্ষতি অব্যাহত থাকবে।

একই চিত্র ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল এলাকার সোমেশ্বরী নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতেও। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, একাধিক দফার পাহাড়ি ঢলে নদীর পাড় ভেঙে গেছে, আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে, অনেক ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ঢলে কয়েক একর জমিতে নতুন করে বালুর স্তর পড়ে যাওয়ায় তারা এখন চাষাবাদের ভবিষ্যৎ নিয়েই শঙ্কায় রয়েছেন।

তবে বিস্ময়করভাবে জেলার কৃষি বিভাগের কাছে ক্ষয়ক্ষতির কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন এবং জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ফসলি জমিতে বালু জমার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কৃষকদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ কারণে কতটুকু জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো পরিসংখ্যান নেই।

তারা জানান, বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

এদিকে কৃষকদের দাবি, শুধু ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিলেই হবে না। দ্রুত বালু অপসারণে সরকারি সহায়তা, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি এবং নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন