Friday, July 24, 2026

ইউক্রেন সেনাবাহিনীর নতুন প্রধান মিখাইলো দ্রাপাতি, যুদ্ধকৌশলে নতুন বার্তার ইঙ্গিত


ছবিঃ ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর নতুন কমান্ডার-ইন-চিফ মিখাইলো দ্রাপাতাই সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের সময়। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /এপি-র মাধ্যমে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের প্রেস অফিস)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে সামরিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এনেছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সেনাবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে কর্নেল থেকে উঠে আসা অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তা মিখাইলো দ্রাপাতিকে নিয়োগ দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন কেবল নেতৃত্বের রদবদল নয়; বরং ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ যুদ্ধকৌশলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিরও ইঙ্গিত বহন করছে।

৪৩ বছর বয়সী দ্রাপাতি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীতে দীর্ঘদিন ধরে সাহসী ও উদ্ভাবনী কমান্ডার হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সালে রাশিয়াপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখলে চলে যাওয়া মারিউপোলে সাঁজোয়া যান চালিয়ে অবরুদ্ধ নিরাপত্তা সদস্যদের উদ্ধারের অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করে তোলে।

এরপর পূর্ব ইউক্রেনের সংঘাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি ইউক্রেনের স্থলবাহিনী এবং পরে যৌথ বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নতুন নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, দেশের লক্ষ্য একটাই রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিজয় নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য পূরণে নতুন নেতৃত্ব সেনাবাহিনীকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দ্রাপাতির স্থলাভিষিক্ত হওয়া জেনারেল ওলেক্সান্দর সিরস্কি ইউক্রেনের যুদ্ধ ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের শুরুতে কিয়েভ রক্ষায় এবং পরে খারকিভ অঞ্চলে সফল পাল্টা অভিযানে তার নেতৃত্ব ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিল। তবে সেনাদের মধ্যে কঠোর নেতৃত্বের জন্য তিনি সমালোচিতও ছিলেন।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রাপাতির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আধুনিক যুদ্ধ সম্পর্কে তার বাস্তব অভিজ্ঞতা। তিনি সোভিয়েত আমলের প্রচলিত কৌশলের পরিবর্তে ড্রোন, প্রযুক্তিনির্ভর অভিযান এবং দ্রুতগতির অভিযানে বেশি গুরুত্ব দেন। বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রে যেখানে ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে, সেখানে তার নেতৃত্ব ইউক্রেনের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইহর রোমানেঙ্কোর মতে, দ্রাপাতি সৈনিকদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি ঝুঁকি নেন, তবে তা হিসাব করেই নেন। অধীনস্থ সদস্যদের নিরাপত্তাকেও তিনি গুরুত্ব দেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনেই যুদ্ধের চিত্র রাতারাতি বদলে যাবে না। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও জেনারেল স্টাফের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা এখনো রয়ে গেছে। ন্যাটো মানদণ্ড অনুযায়ী সংস্কার সম্পন্ন না হলে সেই কাঠামোগত সমস্যার সমাধান হবে না বলেও মত দিয়েছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে সম্প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ড্রোন প্রযুক্তি ও আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই নেতার অপসারণের প্রতিবাদে কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভও হয়েছে। যদিও দ্রাপাতির নিয়োগে সেই উত্তেজনা কিছুটা কমেছে, তবু রাজনৈতিক অস্থিরতা পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

অন্যদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ দাবি করেছেন, ইউক্রেনের সামরিক নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন হবে না এবং রাশিয়ার অভিযান আগের মতোই চলবে।

তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, দ্রাপাতির নেতৃত্বে ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিচালনার ধরনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যদিও সেই পরিবর্তনের প্রকৃত প্রভাব বোঝার জন্য আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা, সেনা সমাবেশ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং রাশিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ সবকিছু মিলিয়েই নির্ধারিত হবে এই নতুন নেতৃত্ব কতটা কার্যকর প্রমাণিত হয়।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন