Saturday, July 25, 2026

সরকারের সঙ্গে বৈঠকেও আন্দোলন প্রত্যাহার নয়, ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী ছাত্র বিক্ষোভ অব্যাহত


ছবিঃ ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই নয়াদিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র সমর্থকরা সমবেত হন। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ভারতের জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে আলোচনায় অংশ নিলেও দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর নেতারা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের দুই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর সঙ্গে সিজেপির দুই শীর্ষ নেতার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি এমন এক সময়ে হলো, যখন ২৬ দিন ধরে অনশন চালিয়ে আসা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক সরকারের আশ্বাস পাওয়ার পর অনশন ভেঙেছেন।

বৈঠক শেষে সিজেপির নেতারা জানান, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে সরকার শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। সরকারের আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার পর আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, সরকারের কাছে তাদের দাবিগুলো আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তারা আশা করছেন সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবেই চলবে।

আন্দোলনকারীদের তিনটি প্রধান দাবি হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা না করার নিশ্চয়তা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য এই আন্দোলনকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং চলমান সংসদ অধিবেশনেও বিষয়টি নিয়ে সরকারকে চাপে রাখছে।

এদিকে সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এ সংক্রান্ত একটি খসড়া আইন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, শুধু কঠোর শাস্তি নয়, পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারই এখন সবচেয়ে জরুরি।

সিজেপির নেতাদের ভাষ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা বারবার ঘটছে কারণ ব্যবস্থার ভেতরেই বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। তাই কেবল আইন পরিবর্তন করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

গত কয়েক দিনে দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, পাটনাসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ রাস্তায় নেমেছেন। তাদের সবার একটাই দাবি পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

দিল্লিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, পুলিশের বাধা ও সহিংসতার মুখেও তারা পিছু হটবেন না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থেই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

অন্য এক আন্দোলনকারী বলেন, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। অন্যথায় দেশের লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

এরই মধ্যে আন্দোলন দমনে রাজধানী দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংসদমুখী মিছিল ঠেকাতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং একাধিক মেট্রো স্টেশনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা হিসেবে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ভারতের অন্যতম বৃহৎ ছাত্র আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লাখো পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় আন্দোলনটি সাধারণ মানুষেরও ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে।

সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংলাপ শুরু হলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনো অনিশ্চিত। ফলে আগামী কয়েক দিনের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে নাকি আলোচনার মাধ্যমেই সংকট নিরসনের পথ তৈরি হবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন