- ২৪ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। সিলেট
টানা ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ইতোমধ্যে সিলেটের কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে নদীঘেঁষা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা এলাকায় সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ফলে এসব এলাকার নদীতীরবর্তী নিচু জনপদে পানি ঢুকে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে কয়েকটি নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং নতুন করে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা বা বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার সিলেট ও সুনামগঞ্জ এবং আত্রাই অববাহিকার নওগাঁ জেলায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে কিংবা বিদ্যমান পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
তবে নেত্রকোনার সোমেশ্বরী অববাহিকায় পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করায় সেখানে চলমান বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।
এদিকে পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানিও বাড়তে পারে। এর ফলে বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলেও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কিছু স্থানে সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও পদ্মা অববাহিকায়ও পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কয়েকটি পয়েন্টে নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি বা ওপরে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে এবং নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় নিম্নাঞ্চল দ্রুত প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে আগাম সতর্কতা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।