- ২৪ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ও দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
এদিকে সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে বেছে নেওয়া হবে, তা নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এর আগে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অবস্থান করা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ শুক্রবার দুপুরে দেশে ফেরেন। নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই তিনি ঢাকায় ফেরেন। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।
গত কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি ছিল, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন। এমনকি বঙ্গভবনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তিনি বিদায়ের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা যায়।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পাওয়া এই রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে মো. সাহাবুদ্দিনের থাকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা আরও জোরালো হয়।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। এখন সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।