- ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের মধ্যে আদালতের আদেশে ফ্রিজ বা অ্যাটাচ করা ব্যাংক হিসাব থেকে সরকারের প্রাপ্য শুল্ক ও কর আদায়ের উপায় নির্ধারণে সাত সদস্যের আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে সরকার। আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ এসব সম্পদ থেকে রাষ্ট্রের পাওনা অর্থ আদায়ে আইনগত ও প্রশাসনিক করণীয় ঠিক করবে কমিটি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অ্যাটর্নি জেনারেলকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। এতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মানি লন্ডারিং শাখার মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম শাখার ডিআইজি সদস্য হিসেবে থাকছেন।
এ ছাড়া এনবিআরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) মহাপরিচালককে কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে।
কমিটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হবে বিদেশে পাচার করা সম্পদের মধ্যে আদালতের আদেশে ফ্রিজ বা অ্যাটাচ করা ব্যাংক হিসাব থেকে সরকারের প্রাপ্য শুল্ক ও কর কীভাবে আদায় করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ দেওয়া।
এ জন্য প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করবে কমিটি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের পাওনা অর্থ আদায়ে কোন ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, কী প্রক্রিয়ায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কীভাবে সমন্বয় বাড়ানো যায়—এসব বিষয়ও পর্যালোচনা করা হবে।
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদের তথ্য অনুসন্ধান, অর্থের গতিপথ শনাক্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ সম্পদ নিয়ে কাজ করতে একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত হতে হয়। ফলে এসব কার্যক্রমে সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করতেই আন্তমন্ত্রণালয় কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
কমিটি প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা শেষে পাচার হওয়া সম্পদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবরুদ্ধ ব্যাংক হিসাব থেকে সরকারের পাওনা আদায়ে করণীয় নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সুপারিশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, আদালতের আদেশে কোনো সম্পদ বা ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ হওয়ার পর সেখান থেকে সরকারের পাওনা শুল্ক ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে আইনগত ও প্রশাসনিক নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। নতুন কমিটি এসব জটিলতা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বের করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
সরকারের এই উদ্যোগের ফলে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের প্রক্রিয়ার সঙ্গে রাষ্ট্রের আর্থিক পাওনা আদায়ের বিষয়টিও আরও সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।