- ১০ মার্চ, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী, মদদদাতা ও অর্থদাতাদেরও দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১০ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানান এনপিএর মুখপাত্র নাজিফা জান্নাত, তুহিন খান ও ফেরদৌস আরা রুমী। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশ বাংলাদেশে একটি হত্যা মামলার এই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে—এমন খবর প্রকাশের পর সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে ভারতের সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা বাংলাদেশে সংঘটিত ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি।
এনপিএর বিবৃতিতে বলা হয়, এই গ্রেপ্তার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা।
এর আগে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতিমধ্যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার একটি এলাকায় হামলার শিকার হন ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১৭ জনকে আসামি করে গত ৭ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে ১২ জন ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তবে অভিযোগপত্র নিয়ে মামলার বাদীর নারাজি আবেদনের পর আদালতের নির্দেশে বর্তমানে মামলাটি অধিকতর তদন্ত করছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
এনপিএ তাদের বিবৃতিতে তিনটি দাবি তুলে ধরে—ভারতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা, হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং ঘটনায় জড়িত সব পরিকল্পনাকারী, মদদদাতা ও অর্থদাতাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা।