- ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ (ডিএফআইএম) পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশের আলোকে ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে এবং ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ সহজ করতে এই ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০২৩-এর ৪১(২)(ঘ) ধারার আওতায় ওই দুই দিন সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও লেনদেন স্থগিত থাকবে।
নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত এই দুই দিনের সাধারণ ছুটির পর ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র ও শনিবার) থাকায় টানা চার দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে গ্রাহকদের জন্য আগামী মঙ্গলবার পর্যন্তই ব্যাংকসংক্রান্ত জরুরি কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ থাকছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্দেশনা পাঠিয়েছে।
এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ২৫ জানুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছে, নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে সাধারণ ছুটি কার্যকর থাকবে। এর লক্ষ্য সরকারি ও বেসরকারি সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া।
দীর্ঘ এই ছুটিতে সাধারণ জনগণের আর্থিক লেনদেনে যেন ভোগান্তি না হয়, সে জন্য ব্যাংকগুলোকে এটিএম বুথ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও ডিজিটাল সেবাগুলো সচল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংক বন্ধ থাকলেও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ, রকেট), পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং অনলাইন লেনদেন কার্যক্রম চালু থাকবে।
ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকদের একটি অংশ আগেভাগেই চেক ক্লিয়ারেন্স, এলসি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেনদেন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছেন। অর্থনীতিবিদরাও এই সময়টিতে প্রয়োজন অনুযায়ী নগদ অর্থ হাতে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি রোববার থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিয়মিত কার্যক্রমে ফিরে যাবে।