- ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক যুক্ত হলো। আজ টোকিওতে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশ ‘অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে আবদ্ধ হলো।
ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও নিজ নিজ সরকারের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচিসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে ঢাকা ও টোকিওতে অনুষ্ঠিত টানা সাত দফা আলোচনার ফল হিসেবেই এই ইপিএ চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এই চুক্তি কেবল একটি বাণিজ্যিক সমঝোতা নয়; বরং এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা ও বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের প্রতিফলন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চুক্তিটির কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সমৃদ্ধির নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।
এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ পণ্য ও সেবা—উভয় খাতে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সুবিধা পাবে। তৈরি পোশাকসহ মোট ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করবে। অপরদিকে, বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা দেবে।
পোশাক খাতে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশি তৈরি পোশাক এখন কাঁচামালের উৎসসংক্রান্ত জটিলতা ছাড়াই জাপানে রপ্তানি করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষা, কেয়ারগিভিং ও নার্সিংসহ প্রায় ১৬টি খাতের ১২০টি সেবা ক্ষেত্রে বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা জাপানে কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাপানের জন্য ১২টি বিভাগের আওতায় ৯৮টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। এতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি উৎপাদন, অবকাঠামো, জ্বালানি ও লজিস্টিকস খাতে জাপানি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাপানের উন্নত প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্পখাতে পণ্যের মান বৃদ্ধি পাবে, যা বৈশ্বিক বাজারে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে এই চুক্তি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।