- ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
নাটকীয়তা ও বিতর্কের আবহেই শুরু হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান, যা বিশ্বকাপের আর্থিক কাঠামোকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক বাস্তবতার কথা বিবেচনায় নিয়ে নেওয়া এই পদক্ষেপে আইসিসির সম্ভাব্য ক্ষতির অঙ্ক বিশাল।
ভারত ও পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলছে না। আইসিসির টুর্নামেন্টেই কেবল এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল মুখোমুখি হয়। ক্রিকেট বিশ্বে সবচেয়ে বেশি দর্শক ও বাণিজ্যিক আগ্রহ তৈরি হয় এই ম্যাচ ঘিরেই। ফলে বৈশ্বিক আসরগুলোর আর্থিক সাফল্যের বড় অংশ নির্ভর করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ওপর।
আইসিসির সম্প্রচার ও স্পন্সরশিপ স্বত্ব কিনেছে ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান জিও স্টার। চার বছরের চুক্তিতে আইসিসির পাওয়ার কথা প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এই চুক্তির বড় অংশই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের দর্শকসংখ্যা ও বিজ্ঞাপন আয়ের ওপর নির্ভরশীল।
একটি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার বলে ধারণা করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, চলতি বিশ্বকাপে যদি এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত না হয়, তবে জিও স্টার আইসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পথে যেতে পারে।
পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের পেছনে আরেকটি কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ইস্যুর কথাও উঠে এসেছে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ভারতে ম্যাচ না খেলার অনুরোধ জানালেও আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে। পরে বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান।
আইসিসি পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে রাজি করাতে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে পাকিস্তান সরকার ও ক্রিকেট বোর্ড এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থানে অনড়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানিয়েছেন, বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে জিও স্টারের সঙ্গে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আইসিসিকে বড় অঙ্কের অর্থ ফেরত দিতে হতে পারে, পাশাপাশি আইনি জটিলতাও তৈরি হতে পারে। গার্ডিয়ানকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চার বছরের সম্প্রচার চুক্তির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে আবর্তিত।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, আইসিসির আয় কমে গেলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের মতো টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর ওপর। এসব দেশের ক্রিকেট আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশই আসে আইসিসি থেকে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া এই অচলাবস্থা চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।