Tuesday, July 21, 2026

মার্জিন ঋণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে বিএসইসি, ইক্যুইটি ৫০ শতাংশে নামলেই নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব


ছবিঃ বিএসইসি ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণ কার্যক্রম আরও নিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিমুক্ত করতে বিদ্যমান বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, কোনো বিনিয়োগকারীর ইক্যুইটি মার্জিন অর্থায়নের ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তার হিসাবে থাকা প্রয়োজনীয় সংখ্যক শেয়ার বা সিকিউরিটি বিক্রি করতে পারবে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’-এর খসড়ায় এই প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, খসড়া বিধিমালা নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজন, বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারীদের মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে হবে। পরে প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে বিধিমালার চূড়ান্ত সংস্করণ সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে।

খসড়া অনুযায়ী, একজন গ্রাহকের ইক্যুইটি সবসময় মার্জিন অর্থায়নের কমপক্ষে ৭০ শতাংশ বজায় রাখতে হবে। কোনো কারণে এই অনুপাত ৭০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত নোটিশ, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর বা ই-মেইলের মাধ্যমে ‘মার্জিন কল’ দিতে হবে। প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ করেও গ্রাহককে বিষয়টি জানাতে হবে।

মার্জিন কল পাওয়ার পরও যদি তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিনিয়োগকারী প্রয়োজনীয় অর্থ বা সিকিউরিটি যোগ করে ইক্যুইটির অনুপাত ৭০ শতাংশে উন্নীত করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাকে নতুন করে কোনো মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ইক্যুইটি পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে তার হিসাবে থাকা শেয়ার বিক্রির ক্ষমতা থাকবে মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের।

আরও কঠোর প্রস্তাব হিসেবে বলা হয়েছে, ইক্যুইটির পরিমাণ যদি মার্জিন অর্থায়নের ৫০ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তাহলে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই বাধ্যতামূলকভাবে প্রয়োজনীয় শেয়ার বিক্রি করা যাবে। বাজার পরিস্থিতির কারণে বিক্রি বিলম্বিত হলে বা তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন না হলে সেখান থেকে সৃষ্ট ক্ষতির দায়ও সংশ্লিষ্ট অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তাবে না।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে মার্জিন ঋণের সর্বোচ্চ সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই গ্রাহকের নিজস্ব ইক্যুইটির চেয়ে বেশি মার্জিন অর্থায়ন দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ ইক্যুইটি ও মার্জিন ঋণের অনুপাত সর্বোচ্চ হবে ১:১। তবে তালিকাভুক্ত জীবন বিমা কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রে এই অনুপাত হবে ১:০.২৫।

খসড়া বিধিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মার্জিন ঋণ পাওয়ার জন্য গ্রাহকের হিসাবে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিতে কমপক্ষে তিন লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে। শুধু স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত শেয়ারেই মার্জিন অর্থায়ন দেওয়া যাবে। তবে ‘জি’, ‘এন’ ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার এবং এসএমই, এটিবি ও ওটিসি প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিগুলো এ সুবিধার বাইরে থাকবে।

বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে কোম্পানির আর্থিক সূচকের ওপরও নতুন শর্ত আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো কোম্পানির মূল্য-আয় (পিই) অনুপাত ৩০-এর বেশি হলে অথবা কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ঋণাত্মক হলে সেই শেয়ারে মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে না। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পিই-এর পরিবর্তে প্রাইস-টু-বুক (পিবি) অনুপাত বিবেচনায় নেওয়া হবে। সেখানে পিবি অনুপাত ৩-এর বেশি এবং বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে ১-এর বেশি হলে মার্জিন অর্থায়ন নিষিদ্ধ থাকবে।

এ ছাড়া প্রতিটি মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানে অন্তত দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো প্রতিষ্ঠান যেন মোট মার্জিন অর্থায়নের ২০ শতাংশের বেশি একটি মাত্র শেয়ারে বিনিয়োগ না করে এবং কোনো একক গ্রাহকের মার্জিন ঋণের ২০ শতাংশের বেশি একটি সিকিউরিটিতে কেন্দ্রীভূত না হয়, সে বিষয়েও বিধিনিষেধ আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত এই সংশোধনীগুলো বাস্তবায়িত হলে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের দায়িত্বশীল বিনিয়োগে উৎসাহিত করার পাশাপাশি পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন