- ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে সয়াবিন তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে সয়াবিন তেলের দাম প্রতি মণে প্রায় ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সামনে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে রমজানের আগেই দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
পাইকারি বিক্রেতাদের দাবি, মিল পর্যায় থেকে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক পাইকারি দোকানে বর্তমানে পর্যাপ্ত তেল নেই। ফলে আগের মজুতকৃত তেল দিয়েই বিক্রি চালাতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত নভেম্বর মাসে দেশে সয়াবিন আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ২৮৭ মেট্রিক টন। ডিসেম্বর মাসে এই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ২৩ হাজার ৫২০ মেট্রিক টনে এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে আমদানি হয় ৩ লাখ ৩১ হাজার ১০৩ মেট্রিক টন। আমদানির এই পরিসংখ্যান সত্ত্বেও বাজারে সরবরাহ ঘাটতির অভিযোগ উঠছে।
গতকাল খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি মণ ৭ হাজার ৫০ টাকায় এবং পামঅয়েল প্রতি মণ ৫ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে চিনি, ছোলা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে নতুন করে কোনো বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়নি।
খাতুনগঞ্জের সোনা মিয়া মার্কেট সয়াবিন ও পামঅয়েলের অন্যতম প্রধান পাইকারি কেন্দ্র। এখানে শতাধিক তেল ব্যবসায়ী ও কয়েকশ ব্রোকারের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ লেনদেন হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার ব্যস্ততা চোখে পড়ে।
পাইকারি তেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইলিশ বলেন, বাজারে এখন সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট। মিল থেকে নতুন করে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে মূলত মেঘনা ও টিকে গ্রুপের সয়াবিন বাজারে রয়েছে। নতুন করে তেল সংগ্রহ করতে গেলে প্রতি মণে সাড়ে সাত হাজার টাকার কাছাকাছি দাম পড়ছে।
অন্যদিকে ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক আবুল বশর চৌধুরী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে এবং অনেক আমদানিকারক আগের তুলনায় বুকিং কমিয়ে দিয়েছেন। রমজানের আগে দাম আরও বাড়বে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) ও স্লিপ বেচাকেনার অনিয়মও তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলছে। নির্ধারিত সময়ে মিল থেকে ডিও অনুযায়ী পণ্য ডেলিভারি না হওয়ায় ডিও ও স্লিপ একাধিকবার হাতবদল হচ্ছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হলেও সাধারণ ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি দাম।
ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার একসময় ডিওর মেয়াদ ১৫ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশনা দিলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিও ছয় থেকে সাত মাস পর্যন্ত ব্যবহার হচ্ছে। একইভাবে স্লিপের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ না হওয়ায় দাম বাড়ছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সয়াবিন তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে ডিও ও স্লিপ বেচাকেনার এই অনৈতিক প্রক্রিয়া বন্ধ করা জরুরি। পাশাপাশি মিল পর্যায় থেকে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে রমজান মাসে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।