- ১৪ মার্চ, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। বরিশাল
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) পুলিশ ফাঁড়ি কার্যত বন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা সংশয় তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ফাঁড়িতে কোনো পুলিশ সদস্য নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন না। ফলে ক্যাম্পাসে টহল, তদারকি ও বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাস এলাকায় বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা সামলাতে পুলিশের অনুপস্থিতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। ফয়সাল নামের এক শিক্ষার্থী জানান, “বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ফাঁড়ি থাকলে এমন পরিস্থিতি হতো না। কোনো সমস্যা হলে প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকে, কিন্তু এখন তা সম্ভব হচ্ছে না।”
শুক্রবার (১২ মার্চ) রাত ২টা ৪৫ মিনিটে সেনাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেইট থেকে সাতজন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুলে নেয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের সাথে এমন সময় তুচ্ছ ব্যবহার করা হয়েছে, আইডি কার্ড দেখানোর পরও তাদের বিশ্বাস করা হয়নি এবং এক পর্যায়ে লাঠি ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়। ভুক্তভোগী হাসান মাহবুব বলেন, “আমরা শুধু হলের ডাইনিং বন্ধ থাকায় বাইরে চা খেতে গিয়েছিলাম। আমাদের সব তথ্য দেখানো সত্ত্বেও সেনারা আমাদের বিশ্বাস করেনি।”
ক্যাম্প কমান্ডার মেজর আব্দুল গণি জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের সন্দেহজনক গতিবিধি ও সময়ের কারণে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেছেন, কোনো লাঠি চার্জ করা হয়নি এবং শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
পুলিশ ফাঁড়ি পুনরায় কার্যকর করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এখনও সমাধান হয়নি। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর প্রক্টর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ফোর্সের সংকটের কারণে পুলিশ মোতায়েন করা সম্ভব হয়নি, তবে পুনরায় চিঠি দেওয়ার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য কর্তৃপক্ষের তৎপরতা কামনা করছেন। নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর না হলে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আরও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।