Tuesday, March 10, 2026

নেপালের নির্বাচনের ফল ঘিরে আলোচনায় বাংলাদেশ: তরুণদের রাজনীতিতে ভিন্ন বাস্তবতা


ছবিঃ জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

নেপালের সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও আলোচনায় উঠে এসেছে। এর প্রধান কারণ, দুই দেশেই তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে ঘটে যাওয়া অভ্যুত্থান এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের মিল।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপালে বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ১৬৫ আসনের মধ্যে দলটি ১২৫টি আসনে জয়লাভ করেছে। একই সঙ্গে অনুপাতিক ভোটেও এগিয়ে থাকায় ২৭৫ সদস্যের পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছে দলটি।

নেপালে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তরুণদের নেতৃত্বে রাজনৈতিক আন্দোলনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগে বাধ্য হন। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনের সময় থেকেই জনপ্রিয় বালেন্দ্র শাহ ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন এবং পরে আরএসপিতে যোগ দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। র‍্যাপ সংগীতশিল্পী থেকে রাজনীতিতে আসা ৩৬ বছর বয়সী এই নেতা এখন দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাব্য মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন।

আরএসপি দলটি ২০২২ সালে রবি লামিছানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথাগত রাজনীতির দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দলটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এবারের নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে দলটি বড় জয় পেয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশেও ২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ করে। তবে ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনে দলটি এককভাবে অংশ নিতে না পেরে একটি পুরোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করে। ৩০০ আসনের মধ্যে জোটের ভাগে পাওয়া ৩০ আসনের মধ্যে এনসিপি ছয়টিতে জয়ী হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, নেপাল ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কিছু মিল থাকলেও বাস্তবতায় পার্থক্য রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান মনে করেন, নেপালে আরএসপি নিজেদের পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে, যা ভোটারদের আস্থা অর্জনে সহায়ক হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে এনসিপি সেইভাবে সারা দেশে সংগঠন বিস্তার করতে পারেনি।

তবে এনসিপি নেতারা মনে করেন, বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে তাদের প্রকৃত শক্তি পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। দলটির নেতাদের দাবি, অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের অভিজ্ঞতা তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তবে সংগঠন শক্তি, রাজনৈতিক কৌশল ও সময়োপযোগী প্রস্তুতির ওপরই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ফলাফল নির্ভর করে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন