- ২৬ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। রাজবাড়ী
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলন্ত ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেওয়া এক নারীকে প্রায় চার ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। নদীতে ভাসমান কচুরিপানার সঙ্গে ভেসে ফরিদপুরের একটি চরে পৌঁছে গেলে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া নারীর নাম মোছা. লাইজু (৩৯)। তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদ এলাকার বাসিন্দা এবং মো. ফোরকান মিয়ার স্ত্রী।
জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি ফেরিতে যাত্রাকালে তিনি হঠাৎ পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে ফেরিতে থাকা যাত্রী ও কর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি দ্রুত নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও ফেরি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
ফেরিতে থাকা ঝালমুড়ি বিক্রেতা মিলন শেখ জানান, ঘটনার আগে ওই নারীকে মোবাইল ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি বেশ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই নদীতে ঝাঁপ দেন। তার ধারণা, পারিবারিক কোনো বিষয় নিয়ে ফোনালাপের সময় মানসিকভাবে বিচলিত হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ওই নারী।
দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই নদীর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি শুরু করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর রাত প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কবিরপুর চর এলাকা থেকে ওই নারীকে জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন জানান, নদীতে পড়ে যাওয়ার পর স্রোতের টানে ভেসে আসা কচুরিপানার সঙ্গে আটকে তিনি কবিরপুর চরের কাছে পৌঁছান। স্থানীয়রা তাকে দেখতে পেয়ে খবর দিলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে নিরাপদে স্থানীয় এক বাসিন্দার বাড়িতে রাখা হয় এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নৌপুলিশকে জানানো হয়।
ফরিদপুর কোতোয়ালি নৌপুলিশ ফাঁড়ির এসআই তপন কুমার জানান, উদ্ধার হওয়া নারীকে রাতেই প্রাথমিকভাবে নিরাপদে রাখা হয়। পরে রোববার ভোরে তাকে নৌপুলিশের হেফাজতে নিয়ে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে কী কারণে তিনি নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে নৌপুলিশ প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।