- ১১ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশের ব্যাংক খাতে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থায় বড় ধরনের বৈষম্য দেখা দিয়েছে। একসময় শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত এসব ব্যাংকের কয়েকটি এখন খেলাপি ঋণ ও মূলধন সংকটে জর্জরিত। তবে এর মধ্যেও তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে সোনালী ব্যাংক।
সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছরের শেষে সোনালী ব্যাংকের মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ থেকে বড় অঙ্কের আয় করায় ব্যাংকটির মুনাফা এক হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনাতেও অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে জনতা ব্যাংক সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছে। বড় কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ খেলাপির কারণে ব্যাংকটির লোকসান ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট ঋণের বড় অংশই খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে সুদ আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে।
ব্যাংকটির বড় খেলাপি গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এসব ঋণ দীর্ঘদিন আদায় না হওয়ায় আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।
এদিকে অগ্রণী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংক বিশেষ নিয়ন্ত্রক সুবিধা নিয়ে সীমিত মুনাফা দেখিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ ছাড় না পেলে ব্যাংক দুটির প্রকৃত আর্থিক চিত্র আরও দুর্বল হতো।
আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বড় সমস্যা হলো খেলাপি ঋণ, দুর্বল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক প্রভাব। নিয়ম অনুযায়ী খেলাপি ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কয়েকটি ব্যাংক তা পূরণ করতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কঠোর নজরদারি, স্বচ্ছ ঋণনীতি এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।