- ১০ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
খেলাপি ঋণে জর্জরিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন নীতিসহায়তা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো মোট বকেয়া ঋণের মাত্র ২ শতাংশ জমা দিয়েই ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ পাবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে। এছাড়া ঋণ নিয়মিত হওয়ার পর প্রথম দুই বছর কিস্তি পরিশোধে বিশেষ ছাড় বা গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা মিলবে।
তবে আগে যারা বিশেষ নীতিসহায়তার আওতায় ঋণ পুনঃতফসিল করেছে, তারা এই নতুন সুবিধা পাবেন না। গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত যেসব ঋণ খেলাপি হয়েছে, কেবল সেসব গ্রাহকই এই সুযোগের আওতায় আসবেন। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, আবেদন পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এককালীন ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও গ্রাহকরা এক বছর সময় পাবেন এবং এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ঋণ পুনঃতফসিলের চূড়ান্ত অনুমোদন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দেবে। পাশাপাশি গ্রাহকের কাছ থেকে জমা নেওয়া ডাউন পেমেন্ট পুরোপুরি নগদায়নের পরই আবেদন কার্যকর হবে।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণের চাপ ও শিল্পখাতের স্থবিরতার কারণে এই ধরনের নীতিসহায়তা প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনিয়ম ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতে পারে।
তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, বারবার পুনঃতফসিল সুবিধা দিলে নিয়মিত ঋণগ্রহীতারা নিরুৎসাহিত হতে পারেন। একই সঙ্গে প্রকৃত খেলাপিদের দায় এড়ানোর সুযোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। বড় শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ অনিয়ম, দুর্নীতি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির প্রভাবেই গত কয়েক বছরে খেলাপি ঋণ দ্রুত বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।