Monday, May 11, 2026

গ্রামীণ শ্রমজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে নতুন নীতি দাবি


ছবিঃ রাজধানীর মুক্তি ভবনে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: গ্রামীণ মজুরের সমস্যা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অধ্যাপক এম এম আকাশ বক্তব্য দেন (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের নামে পরিচালিত অনেক ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম এখন উল্টো মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, ঋণের বোঝা সামলাতে না পেরে অনেক ক্ষেতমজুর ও দিনমজুর চরম হতাশায় ভুগছেন, এমনকি কেউ কেউ আত্মহননের পথও বেছে নিচ্ছেন।

রাজধানীর মুক্তি ভবন–এ আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: গ্রামীণ মজুরের সমস্যা ও করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা উঠে আসে। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি।

সভায় অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ বলেন, গ্রামীণ মানুষ দয়া বা অনুদান চান না; তারা চান সারা বছর কাজের সুযোগ, ন্যায্য মজুরি এবং সম্মানজনক জীবনযাপন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু এনজিওর ঋণনীতি দরিদ্র মানুষকে মুক্তির বদলে দীর্ঘমেয়াদি ঋণচক্রে আবদ্ধ করে ফেলছে।

অনুষ্ঠানে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, উন্নয়নের নানা প্রচারণা থাকলেও শ্রমজীবী মানুষের বাস্তব জীবনমানের উন্নতি খুব কম হয়েছে। তিনি ভূমিহীনদের জন্য খাসজমির অধিকার নিশ্চিত করা এবং সরকারি সহায়তা বণ্টনে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি বন্ধের দাবি জানান।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ–এর সম্মাননীয় ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান শ্রমিক পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের একই পেশায় আটকে না রেখে শিক্ষার সুযোগ ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বয়স্ক শ্রমিকদের জন্য মাসিক পেনশন চালুর দাবি জানান তিনি।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষ বর্তমানে বহুমুখী সংকটে রয়েছেন। বিশেষ করে হাওর ও নিম্নাঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ধানক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক পরিবার আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও শ্রমিকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বজ্রপাত ও কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে অন্তত ১০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবিও জানানো হয় সভা থেকে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গবেষক পাভেল পার্থ, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সভাপতি তরিকুল ইসলাম এবং বিভিন্ন এলাকার শ্রমজীবী প্রতিনিধিরা।

বক্তারা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় অতিরিক্ত রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা ‘পরিদর্শন কক্ষ’ নির্মাণ জনগণের ক্ষমতায়নের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি–এর সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কার্যকরী সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সহসাধারণ সম্পাদক কল্লোল বণিক।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন