- ০৩ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশে চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানি ভিটল (Vitol) থেকে স্পট বাজারের মাধ্যমে একটি এলএনজি কার্গো কিনেছে সরকার। আগামী ১৫ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে কার্গোটি দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ দশমিক ৩৫ মার্কিন ডলার। এতে পুরো কার্গোটির আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
তবে উচ্চমূল্যে স্পট বাজার থেকে এলএনজি কেনার এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের বক্তব্য, তুলনামূলক কম দামে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সরবরাহের সম্ভাবনা থাকলে ব্যয়বহুল স্পট আমদানির ওপর এতটা নির্ভরশীল হওয়ার কারণ কী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সামিট অয়েল অ্যান্ড শিপিং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় ১১ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার দরে এলএনজি সরবরাহে প্রস্তুত রয়েছে। কোম্পানিটির ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের সরবরাহ কার্যক্রম চালুর সুযোগ না থাকায় দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সরকারকে স্পট বাজার থেকে তুলনামূলক অনেক বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।
কোম্পানিটির দাবি, কম দামের দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ কার্যকর না হওয়ায় আমদানি ব্যয় বাড়ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর। বর্তমান পরিস্থিতিতে উচ্চমূল্যের স্পট এলএনজি কেনা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি খাতে সরকারের ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ও কমমূল্যের সরবরাহ নিশ্চিত করার বাস্তব সুযোগ থাকলে তা যাচাই করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, স্বল্পমেয়াদি চাহিদা মেটাতে স্পট বাজার কার্যকর হলেও দীর্ঘ সময় ধরে এর ওপর নির্ভরতা দেশের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, কোনো চুক্তি নিয়ে আইনি জটিলতা বা মতবিরোধ থাকলে তা আদালত কিংবা আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। তবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ব্যয় কমানো এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহব্যবস্থা কার্যকর করা গেলে আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কেন উচ্চমূল্যের স্পট বাজার থেকে এলএনজি কেনা হচ্ছে এ প্রশ্নেরও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।