Saturday, March 14, 2026

ঈদের আগে বাজারে অস্থিরতা: বেড়েছে মুরগি ও মাছের দাম


ফাইল ছবিঃ গরুর মাংস, মাছ ও মুরগি (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি নেই। বিশেষ করে মাছ ও মুরগির দাম আবারও বেড়ে সাধারণ ক্রেতারা চাপে পড়েছেন। তবে কিছু সবজির দাম কমায় বাজারে আংশিক স্বস্তি ফিরেছে।

শুক্রবার রাজধানীর নিউ মার্কেট ও লালবাগের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে দুইশো বিশ থেকে দুইশো ত্রিশ টাকায়, যেখানে এক সপ্তাহ আগেও দাম ছিল একশো নব্বই থেকে দুইশো টাকার মধ্যে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ত্রিশ থেকে চল্লিশ টাকা।

সোনালি জাতের মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে এ ধরনের মুরগি কিনতে প্রতি কেজি প্রায় তিনশো পঞ্চাশ টাকা গুনতে হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল প্রায় তিনশো বিশ টাকা।

অন্যদিকে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারভেদে প্রতি কেজি গরুর মাংস আটশো থেকে আটশো বিশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা জানান, মাছ ও গরুর মাংসের দাম আগেই অনেক বেশি ছিল। এখন যদি মুরগির দামও বেড়ে থাকে, তাহলে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

মাছের বাজারে পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি দুইশো থেকে দুইশো বিশ টাকায়, তেলাপিয়া দুইশো ত্রিশ টাকায় এবং রুই মাছ তিনশো পঞ্চাশ থেকে চারশো টাকার মধ্যে। মৃগেল মাছের দাম প্রতি কেজি তিনশো থেকে তিনশো বিশ টাকা। ঈদকে সামনে রেখে চিংড়ির চাহিদা বাড়ায় এর দাম সবচেয়ে বেশি। আকারভেদে চিংড়ি কিনতে প্রতি কেজি পাঁচশো পঞ্চাশ থেকে নয়শো টাকার মধ্যে খরচ করতে হচ্ছে।

মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাধারণত বাজারে মাছের দামে কিছুটা ওঠানামা থাকে। ঈদের আগে চাহিদা বাড়ার কারণে কিছু ক্ষেত্রে দাম বাড়তে পারে।

এদিকে ফার্মের মুরগির ডিমের দামও কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে এক ডজন ডিম একশো দশ থেকে একশো বিশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় প্রায় দশ টাকা বেশি।

রমজানের শেষ দিকে ছোলা ও ডালের দামে কিছুটা কমতি দেখা গেছে। এসব পণ্যের দাম প্রতি কেজি প্রায় দশ টাকা কমেছে। চিনির দামও আগের মতোই রয়েছে; প্রতি কেজি একশো থেকে একশো দশ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

ভোজ্যতেলের বাজারে আগের তুলনায় সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে, যদিও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার প্রায় একশো পঁচানব্বই টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি দেখা গেছে। বেশিরভাগ সবজির দাম ষাট টাকার মধ্যে রয়েছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ষাট টাকায়, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় কুড়ি টাকা কম।

এ ছাড়া বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি পনেরো থেকে বিশ টাকায় এবং পেঁয়াজ ত্রিশ থেকে চল্লিশ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। তবে ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাজার পরিস্থিতি কী অবস্থায় থাকে, তা নিয়ে এখনও ক্রেতারা উদ্বিগ্ন।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন