- ১৬ মে, ২০২৬
বাংলাদেশ ও ব্রাজিল–এর মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছালেও দুই দেশের সম্ভাবনার তুলনায় তা এখনো সীমিত বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকেরা। বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে সরাসরি শিপিং ব্যবস্থা চালু, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন উভয় পক্ষ।
স্থানীয় সময় শুক্রবার ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়া–র পালাসিও দো প্লানালতোতে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ব্রাজিলের পক্ষে ছিলেন প্রেসিডেন্টের প্রধান উপদেষ্টা সেলসো আমোরিম।
বৈঠকে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্রাজিল থেকে তুলা, সয়াবিন, চিনি ও বিভিন্ন শিল্প কাঁচামাল আমদানি করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাটজাত পণ্য ও সিরামিকের জন্য ব্রাজিলের বাজারে বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে সরাসরি শিপিং ব্যবস্থা চালু হলে বাণিজ্য ব্যয় কমবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে কৃষি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানি ও উদ্ভাবন খাতে যৌথ সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা–র পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানানো হয়। সেলসো আমোরিম বাংলাদেশকে গ্লোবাল সাউথের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান কণ্ঠস্বর হিসেবে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে চলতি বছরের ব্রাজিলের সাধারণ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিতব্য ‘ফরেন অফিস কনসালটেশনস’ নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় দেশ আশা প্রকাশ করেছে, ওই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সহযোগিতা কাঠামো চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, দেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সার্ক–কে পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি।
ব্রাজিলের পক্ষ থেকে প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল রূপান্তর, জনস্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা গবেষণাসহ বিভিন্ন খাতে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়।