- ১৫ মে, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এই চুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি আমদানির নতুন সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন জ্বালানি দপ্তর–এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে ড. খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ক্রিস রাইট সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তিকে বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), এলপিজিসহ বিভিন্ন জ্বালানি পণ্য আমদানির সুযোগ বাড়াতে পারবে। একই সঙ্গে জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেও এই সহযোগিতা ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এমওইউ অনুযায়ী, তেল, গ্যাস, ভূতাপীয় শক্তি এবং জৈবশক্তিসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশ প্রযুক্তি, গবেষণা ও দক্ষতা বিনিময় করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের আধুনিকায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই সমঝোতা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি এ উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য তারেক রহমান এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প–কে ধন্যবাদ জানান।
মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটও এই চুক্তিকে দুই দেশের অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা শুধু অর্থনৈতিক সম্পর্ক নয়, কৌশলগত অংশীদারত্বকেও আরও শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠানে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা ও মার্কিন জ্বালানি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।