- ০৩ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়নি। পুরো অর্থবছরে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় সামান্য কম। দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের আয় কমে যাওয়ায় সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারায় থেকে গেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে মোট পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার। ফলে বছর শেষে রপ্তানি কমেছে প্রায় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ। সরকারের নির্ধারিত ৫০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার কম আয় হয়েছে।
মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অর্থবছরের শুরুতে রপ্তানিতে আশাব্যঞ্জক প্রবৃদ্ধি থাকলেও সেই ধারা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বছরের বেশির ভাগ সময়ই রপ্তানি নিম্নমুখী ছিল। কেবল কয়েকটি মাসে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও তা সামগ্রিক ঘাটতি পূরণে যথেষ্ট হয়নি। অর্থবছরের মাত্র চার মাসে রপ্তানি ৪ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করে।
দেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত তৈরি পোশাক থেকে এ অর্থবছরে আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। তবে জুন মাসে এ খাতে রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদুল আজহার কারণে কর্মদিবস বেশি থাকায় ওই মাসে রপ্তানি সাময়িকভাবে বেড়েছিল।
তৈরি পোশাকের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানিতেও কিছুটা স্থবিরতা দেখা গেছে। তবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্য এবং হিমায়িত খাদ্য খাত ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে দুর্বল চাহিদা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা এবং প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে চাপে ফেলেছে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত মূল্য না পাওয়ায় অনেক রপ্তানিকারক আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
রপ্তানিকারকদের দাবি, শ্রমিকের মজুরি, জ্বালানি, সুতা, রাসায়নিকসহ বিভিন্ন উৎপাদন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় কারখানাগুলোর ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে সেই ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়েছে, কিছু কারখানা সাময়িকভাবে কার্যক্রমও বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
অন্যদিকে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় তুলনামূলক কম থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রপ্তানি আয় প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়লে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান আরও শক্তিশালী হতো।
ব্যবসায়ীদের মতে, আগামী অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ, উৎপাদন ব্যয় কমানো, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উন্নয়নের বিকল্প নেই। তা না হলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।