- ০৩ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
রাজধানীর খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে কিছুটা স্বস্তির চিত্র দেখা যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে ডিম, বিভিন্ন ধরনের সবজি এবং দেশি পেঁয়াজের দাম কমেছে। তবে বৃষ্টির প্রভাবে কাঁচামরিচ ও দেশি রসুনের দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। চাল, মাংস, মাছসহ অধিকাংশ অন্যান্য পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজার, নিউমার্কেট ও তুরাগের নতুন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় বেশির ভাগ সবজির দাম কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বর্তমানে ঝিঙা প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপেও ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে সবজির মধ্যে বেগুনের দাম তুলনামূলক বেশি। বাজারভেদে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১১০ টাকায়। এছাড়া গাজর ও টমেটোর দাম এখনও বেশ চড়া রয়েছে।
অন্যদিকে টানা বৃষ্টির কারণে কাঁচামরিচের সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হওয়ায় এর দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে দেশি পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় নেমেছে। দেশি আদার দামও সামান্য কমেছে। তবে দেশি রসুনের দাম বেড়ে সর্বনিম্ন ৯০ টাকায় পৌঁছেছে। আমদানিকৃত রসুনের দাম কিছুটা কমে বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের বাজারেও মিলেছে স্বস্তি। ফার্মের বাদামি ও সাদা—দুই ধরনের ডিমের দামই ডজনপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কমেছে। বর্তমানে বাদামি ডিম ১২০ টাকা এবং সাদা ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারে ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা এবং সোনালি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।
মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। চাষের কৈ, রুই, তেলাপিয়া, পাঙাশ, টেংরা ও চিংড়ির দাম আগের সপ্তাহের মতোই রয়েছে। তবে ইলিশের দাম এখনও সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী সপ্তাহগুলোতেও সবজির সরবরাহ ভালো থাকবে এবং দাম আরও সহনীয় হতে পারে। তবে বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে কাঁচামরিচ ও কিছু দ্রুত নষ্ট হওয়া কৃষিপণ্যের দামে আবারও প্রভাব পড়তে পারে।