Thursday, July 2, 2026

চট্টগ্রাম বন্দরে আয়ের নতুন রেকর্ড, কাস্টমসে প্রবৃদ্ধি হলেও লক্ষ্য অপূর্ণ


ছবিঃ আয়ের রেকর্ডে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর এবং রাজস্ব আদায়ের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। উভয় প্রতিষ্ঠানই আগের অর্থবছরের তুলনায় আয় বাড়াতে সক্ষম হলেও কাস্টমস নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এ অর্জনের মাধ্যমে আয়ের ক্ষেত্রে অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর।

অন্যদিকে একই সময়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ প্রায় ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায়ে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও নির্ধারিত ১ লাখ ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রতিষ্ঠানটি পিছিয়ে রয়েছে। দেশের মোট রাজস্ব আয়ের একটি বড় অংশ এখনও চট্টগ্রাম কাস্টমসের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।

কাস্টমসের পরিসংখ্যান বলছে, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে পেট্রোবাংলার কাছে। এছাড়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর কাছেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আদায় বাকি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এসব বকেয়া আদায় সম্ভব হলে রাজস্ব আহরণের চিত্র আরও ইতিবাচক হতে পারত।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর অনুষ্ঠানে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, বন্দরের আয় ও কার্যক্রম উভয় ক্ষেত্রেই নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এই সাফল্যের কৃতিত্ব বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে দিয়েছেন।

তবে একই সঙ্গে তিনি বন্দরের বিদ্যমান সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, বর্তমান অবকাঠামো সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে। জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল নৌচলাচলের কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় ২৪ ঘণ্টা জাহাজ পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় দ্রুত বে-টার্মিনাল নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

বাণিজ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। তবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, বকেয়া আদায় এবং বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন