- ০৪ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
এইচএসবিসি বাংলাদেশের রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে চাকরি হারানো কর্মকর্তারা ব্যাংকটির বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘন এবং বৈষম্যমূলক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একই ধরনের পুনর্গঠনের সময় যে পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশে তার তুলনায় অনেক কম সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের ভাষ্য, রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্তের ফলে একযোগে ২৫৭ কর্মকর্তা চাকরি হারান, যাদের অনেকেই দীর্ঘ ১৫ থেকে ২৫ বছর ধরে ব্যাংকটিতে কর্মরত ছিলেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের দাবি, বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১৫ মাসের বেতনের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও ভারতে একই ধরনের পরিস্থিতিতে ১২০ গুণ এবং শ্রীলঙ্কায় ৮৪ গুণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। তাই বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক মান অনুসারে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো নথিতে কর্মীদের ‘রিট্রেঞ্চড’ বা ছাঁটাইকৃত হিসেবে উল্লেখ করা হলেও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের হাতে দেওয়া হয়েছে সাধারণ চাকরি অবসানের নোটিশ। এর ফলে শ্রম আইনে নির্ধারিত বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা ও অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন তারা।
আরও অভিযোগ করা হয়, কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার যথাযথ প্রতিফলনও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে এইচএসবিসির বিরুদ্ধে মোট নয়টি অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে শ্রম আইন অনুসরণ না করা, ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় দ্বৈত নীতি গ্রহণ, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি থেকে অর্থ কর্তনের অভিযোগ, পুনঃনিয়োগে অগ্রাধিকার না দেওয়া, হোম লোনের সুদের হার বৃদ্ধি, রিলিজ লেটার আটকে রাখা এবং কর্মীদের কাছ থেকে আইনি অধিকার ত্যাগসংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ।
ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা পুরো চাকরিচ্যুতি প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সেভারেন্স সুবিধা প্রদান, প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ অন্যান্য খাত থেকে কেটে নেওয়া অর্থ সুদসহ ফেরত দেওয়া এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম অধিদপ্তরের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এইচএসবিসির সাবেক কর্মকর্তা আলমগীর কবির। পরে সিনিয়র আইনজীবী মোকাররম হোসেন সাকলায়েন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এছাড়া চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, আনু রায়হান, সুবক্তগিন মাহমুদ, মুস্তাফিজুর রহমান, মনজুর মোর্শেদসহ অন্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে এইচএসবিসির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ব্যাংকটির প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।