Saturday, May 16, 2026

আসন্ন বাজেটে নিত্যপণ্যে কর ছাড়, বিলাসী পণ্যে বাড়তে পারে কর


ছবিঃ নিত্য পণ্য (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে বিলাসবহুল পণ্য ও উচ্চ সম্পদশালীদের ওপর করের চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

বাজেট সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, চিনি, আটা, ময়দা, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন মসলার মতো প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ওপর বিদ্যমান ১ শতাংশ উৎস কর প্রত্যাহারের চিন্তা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এসব পণ্যের ওপর আরোপিত টার্নওভার করও কমিয়ে আনার প্রস্তাব রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)–এর কর্মকর্তারা বলছেন, মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবার ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের প্রভাব কমানোর লক্ষ্যেই কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, শুধুমাত্র কর কমালেই বাজারে তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তন আসবে না। পরিবহন ব্যয়, আমদানিনির্ভরতা, মজুতদারি ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতাও পণ্যের দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই কর ছাড়ের সুবিধা ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে বাজার তদারকি জোরদারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

অন্যদিকে আসন্ন বাজেটে উচ্চমূল্যের ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ, হেলিকপ্টার ও ব্যক্তিগত বিমানের ওপর বাড়তি আয়কর আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। বিলাসবহুল বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রেও অগ্রিম আয়কর বাড়ানোর আলোচনা চলছে। তবে মধ্যবিত্তের ব্যবহৃত সাধারণ গাড়ির বিদ্যমান কর কাঠামো অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এ ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অস্ত্রের ধরন অনুযায়ী এই কর ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

প্রথমবারের মতো ব্যাটারিচালিত রিকশাকে করের আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় বছরে ৫ হাজার টাকা এবং পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার টাকা কর নির্ধারণ করা হতে পারে। এর মাধ্যমে এই যানবাহনগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় এনে নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের কর ব্যবস্থায় আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে ‘সম্পদ কর’ বা ওয়েলথ সারচার্জ ব্যবস্থায়ও পরিবর্তনের চিন্তা করছে সরকার। একাধিক বাড়ি, উচ্চমূল্যের জমি, বিলাসবহুল গাড়ি ও বড় অঙ্কের নগদ সম্পদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হতে পারে।

এনবিআর সূত্র বলছে, ব্যাংক হিসাব, জমির রেজিস্ট্রি, গাড়ির নিবন্ধন ও সঞ্চয়পত্রের তথ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পদ গোপনের প্রবণতা ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশে সম্পদ পাচারের তথ্য যাচাইয়েও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা চলছে।

বাজেটে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন কর অবকাশ ও প্রণোদনাও পুনর্মূল্যায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। বড় শিল্পগোষ্ঠীর অপ্রয়োজনীয় কর ছাড় সীমিত করা হলেও প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ ও হাইটেক খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনা অব্যাহত থাকতে পারে।

একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মুদি দোকান, ছোট রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় ব্যবসাকে সহজ পদ্ধতিতে ভ্যাট নেটের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। নির্দিষ্ট মাসিক ভ্যাটের বিনিময়ে সহজ নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর চিন্তা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক, আইসক্রিম, ফলের জুস ও প্রসাধনী পণ্যে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়তে পারে। সরকারের ধারণা, এসব পণ্য মূলত উচ্চ আয়ের ভোক্তাদের ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় এখান থেকে বাড়তি রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।

বিদেশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যেমন Google, Facebook ও YouTube–এর বিজ্ঞাপন ও অনলাইন সেবার ওপর ভ্যাট আদায়ও আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন্ন বাজেটে একদিকে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা থাকবে, অন্যদিকে বিলাসী খাত ও উচ্চ আয়ের শ্রেণি থেকে রাজস্ব বাড়ানোর কৌশলই বেশি গুরুত্ব পেতে যাচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন