- ২৪ মে, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বিশ্বের শীর্ষ ধনী উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের বিভিন্ন কোম্পানির জ্বালানি ও প্রযুক্তি কৌশল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ছিল পরিচ্ছন্ন জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, তবে সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো সেই লক্ষ্য থেকে সরে আসছে কি না—এ নিয়ে আলোচনা চলছে।
মাস্কের কোম্পানি টেসলা অতীতে একাধিক “মাস্টার প্ল্যান” প্রকাশ করেছিল, যেখানে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে সরে গিয়ে সৌর ও বৈদ্যুতিক শক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের কথা বলা হয়েছিল। বিশেষ করে প্রথম পরিকল্পনায় তিনি জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতি থেকে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের ওপর জোর দিয়েছিলেন।
তবে নতুন পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই ডেটা সেন্টার চালাতে প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক একাধিক টারবাইন ব্যবহার করছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিমাণ জ্বালানি কেনার পরিকল্পনা করছে। এতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির পরিবর্তে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে বলে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
একই সময়ে মাস্কের আরেক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স নিয়ে প্রকাশিত তথ্যেও ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। কোম্পানিটি অভ্যন্তরীণ লেনদেনের মাধ্যমে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে। যেমন, টেসলার তৈরি বৈদ্যুতিক ট্রাক ও ব্যাটারি সিস্টেমের বড় অর্ডার দেওয়া হয়েছে, তবে সৌর শক্তির ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে ডেটা সেন্টারকে মহাকাশে স্থাপন করার ধারণা নিয়ে স্পেসএক্স কাজ করছে, যেখানে সূর্যের আলো সার্বক্ষণিক পাওয়ার কারণে শক্তি উৎপাদন বেশি হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তির বাস্তবতা, ব্যয় এবং কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপন এখনো প্রাথমিক ধারণা মাত্র এবং এর বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক বহু বাধা রয়েছে। বিশেষ করে মহাকাশে যন্ত্রপাতি সুরক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং উচ্চ ব্যয়ের বিষয়গুলো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার বিদ্যুৎ চাহিদাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। মাস্কের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এআইনির্ভর গণনাকাজের জন্য বিপুল পরিমাণ শক্তি প্রয়োজন হতে পারে, যা বর্তমান স্থলভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, এখনো পৃথিবীতে সৌর ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য শক্তির বিপুল সম্ভাবনা অব্যবহৃত রয়েছে। তাদের মতে, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি বিদ্যমান সবুজ শক্তির উৎসগুলো আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা উচিত।
সব মিলিয়ে মাস্কের প্রযুক্তি ও জ্বালানি কৌশল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে—তিনি কি এখনো পুরোপুরি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পথে আছেন, নাকি বাস্তব প্রয়োজনের কারণে তার অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে—এই প্রশ্ন এখন প্রযুক্তি দুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।