- ২১ জুলাই, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ ও নীতিনির্ধারণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক (Anthropic) নতুন একটি বড় আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এআই-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন ও ঝুঁকি মোকাবিলার পক্ষে কাজ করা রাজনৈতিক সংগঠন পাবলিক ফার্স্ট অ্যাকশনকে (Public First Action) আরও ২ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বুধবার এক বিবৃতিতে অ্যানথ্রপিক জানায়, এই অর্থ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য বড় ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দায়িত্বশীল নীতিমালা তৈরির পক্ষে জনসচেতনতা ও নীতিগত প্রচারণায় ব্যয় করা হবে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও একই সংগঠনকে সমপরিমাণ অর্থ দিয়েছিল কোম্পানিটি। ফলে কয়েক মাসের ব্যবধানে সংগঠনটির জন্য অ্যানথ্রপিকের মোট অনুদানের পরিমাণ দাঁড়াল ৪ কোটি ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন তদারকি কাঠামো নিয়ে আলোচনা করছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এআই-সম্পর্কিত আইন কার্যকর হয়েছে, আর আরও কিছু অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ চলছে। এমন বাস্তবতায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতাও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
পাবলিক ফার্স্ট অ্যাকশন শুধু নীতিগত প্রচারণাই চালায় না; সংগঠনটি এমন দুটি রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটিকেও সমর্থন করে, যারা এআই-সংক্রান্ত তাদের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেয়। বিভিন্ন নির্বাচনী নথি অনুযায়ী, এসব কমিটির অর্থায়ন পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক দলের কয়েকজন প্রার্থীও রয়েছেন।
তবে অ্যানথ্রপিকের দাবি, তাদের দেওয়া নতুন অনুদান কোনো ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় নির্বাচনে নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ব্যবহার করা যাবে না। কোম্পানির একজন মুখপাত্র বলেন, অনুদানটি কেবল জনস্বার্থভিত্তিক নীতিগত কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন আইনে কর-অব্যাহতি পাওয়া রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পাবলিক ফার্স্ট অ্যাকশন বিভিন্ন জননীতি বিষয়ে প্রচারণা চালাতে পারে। তবে তারা সরাসরি ভোটারদের কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাতে পারে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ফলে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি নীতিনির্ধারণের আলোচনায় প্রভাবশালী করতে ক্রমেই সক্রিয় হয়ে উঠছে।
উল্লেখ্য, পাবলিক ফার্স্ট অ্যাকশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সাবেক দুই সদস্যের উদ্যোগে। সংগঠনটি মূলত লিডিং দ্য ফিউচার নামের আরেকটি প্রভাবশালী গ্রুপের বিপরীতে অবস্থান নেয়। লিডিং দ্য ফিউচার তুলনামূলকভাবে কঠোর এআই নিয়ন্ত্রণের বিরোধী এবং সংগঠনটি ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান, বিনিয়োগকারী মার্ক অ্যান্ড্রিসেনসহ প্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সমর্থন পেয়ে থাকে। অ্যান্ড্রিসেনের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এ১৬জেড (A16Z) ওপেনএআইয়ের অন্যতম বিনিয়োগকারী, যা অ্যানথ্রপিকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের একটি।