- ২১ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে চলমান আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে। আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর কংগ্রেস নেতা ও বিরোধীদলীয় রাজনীতিক রাহুল গান্ধীকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। এদিকে সংসদের ভেতর ও বাইরে বিরোধী দলগুলোও আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে মঙ্গলবার অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোটের কয়েকজন নেতা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, মেডিকেল কলেজে ভর্তির পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসসহ শিক্ষা ব্যবস্থার নানা অনিয়মে সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করলেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এ অবস্থায় পুলিশ তাদের আটক করলেও পরে রাহুল গান্ধীকে মুক্তি দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দুই কোটিরও বেশি পরীক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হয় বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনার মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তার সঙ্গে অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনারও যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার জেরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছে। তাদের অভিযোগ, শুধু প্রশ্নফাঁস নয়, দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের সংকট, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম এবং শিক্ষা খাতে জবাবদিহিতার অভাব তরুণদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ তৈরি করেছে।
বুধবার সংসদ চত্বরে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা কালো পোশাক পরে বিক্ষোভে অংশ নেন। একই সময়ে রাজধানীর যন্তর-মন্তরে হাজারের বেশি আন্দোলনকারী অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। সিজেপি জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি আন্দোলনে অংশ নেওয়া কারও বিরুদ্ধে যেন ফৌজদারি মামলা না করা হয়, সেই দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
অন্যদিকে আন্দোলন ঘিরে পুলিশের কঠোর অবস্থানের সমালোচনা বাড়ছে। সোমবার সংসদ অভিমুখে শিক্ষার্থীদের মিছিলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জসহ শক্তি প্রয়োগ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে ১১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া আরও প্রায় ৬০ জন আহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভের কারণে দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটের অন্তত ১৬টি স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, কলকাতা, গোয়া, গुवাহাটি, তিরুবনন্তপুরম, জম্মু ও আহমেদাবাদসহ দেশের বিভিন্ন শহরেও শিক্ষার্থী ও বিরোধী দলগুলোর উদ্যোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগে দায়ের করা একটি আবেদন দ্রুত শুনানির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বুধবার অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আবেদনকারী আইনজীবীকে এ বিষয়ে আদালতের সময় নষ্ট না করার পরামর্শ দেন।
আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করেছে পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনের কর্মী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থন। গত ২৮ জুন অনশন শুরু করা ওয়াংচুককে সম্প্রতি পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তা নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, পরীক্ষা পরিচালনায় জবাবদিহিতা এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ভারতের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ফলে সরকারের ওপর রাজনৈতিক ও জনমতের চাপ আরও বাড়তে পারে।