- ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজেই বিষয়টি জানান।
একসময় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা থাকা একরামুজ্জামান দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। শিল্পপ্রতিষ্ঠান আরএকে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পরিচিত একরামুজ্জামান এর আগেও একাধিকবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে নির্বাচন করেছেন। নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনি বিজয়ী হতে পারেননি। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে একরামুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী ও নাসিরনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এনামুল হুদা (সুমন) জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে একরামুজ্জামান এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এনামুল হুদা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় তারেক রহমানের সঙ্গে একরামুজ্জামানের সাক্ষাৎ হয়। সেখানে রাজনৈতিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং দলীয় স্বার্থে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁকে বিএনপিতে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
ভিডিও বার্তায় একরামুজ্জামান বলেন, তিনি দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা মেনে এবং দলের প্রতীকের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছেন। তিনি ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘কলার ছড়ি’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে একরামুজ্জামান প্রায় ৮৯ হাজার ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য বি এম ফরহাদ হোসেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির জন্য কঠিন এলাকা হিসেবে পরিচিত। অতীতে এখানে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ন্যাপ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হলেও বিএনপি কখনো বিজয়ী হতে পারেনি। এবারের নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হান্নান।