- ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলের মধ্যে গড়ে ওঠা নির্বাচনী সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে কেন্দ্র করে গঠিত এই জোটে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)।
দলীয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, শুরুতে আটটি দল নিয়ে আসন সমঝোতার আলোচনা শুরু হলেও পরে এতে যুক্ত হয় এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি। নতুন তিন দল যুক্ত হওয়ায় আসন বণ্টন নিয়ে কিছু দলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রথম দিকে শতাধিক আসনের দাবি করায় আলোচনা জটিল হয়ে পড়ে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত এক খসড়া বণ্টনে ইসলামী আন্দোলনকে ৩৫ থেকে ৪০টি, এনসিপিকে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১১টি, খেলাফত মজলিসকে ৩টি, এবি পার্টিকে ৩টি, এলডিপিকে ২টি এবং বিডিপিকে ২টি আসন ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়। এতে ইসলামী আন্দোলন একপর্যায়ে আলোচনা থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয় বলে জানা গেছে। এসব ঘটনা ঘটে গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে।
তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে আবারও আলোচনার গতি বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ইসলামী আন্দোলন আগের তুলনায় এখন অনেকটাই নমনীয়। গত বুধবার জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দলটির একটি বৈঠক হয়েছে, যেখানে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। সামনে আরও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানান, সমঝোতার আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
অন্যদিকে, এনসিপির সঙ্গেও আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে ৩০টি আসনের কথা বলা হলেও এনসিপি ৩৫ থেকে ৪০টি আসন প্রত্যাশা করছে। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, আসন সমঝোতা নিয়ে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তাঁর মতে, শেষ পর্যন্ত এনসিপি ৩০টির বেশি আসন পেতে পারে।
এদিকে, সমঝোতার আলোচনা চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রায় সব দলই বিপুল সংখ্যক আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। জামায়াত দিয়েছে ২৭৬টি আসনে, ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে, এনসিপি ৪৭টি আসনে এবং অন্য দলগুলোও নিজ নিজ সক্ষমতা অনুযায়ী প্রার্থী দিয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্তে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের মধ্য দিয়েই চূড়ান্ত সমঝোতার বাস্তবায়ন হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ১১ দলের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হবে বলে তিনি আশাবাদী।
সব মিলিয়ে, মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পর্যন্ত আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং শেষ পর্যন্ত কোন দল কতটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে—তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে অপেক্ষা ও কৌতূহল।