Wednesday, March 11, 2026

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ–প্রধান নিয়োগে নতুন শর্ত, প্রয়োজন ১৮ বছরের শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা


প্রতীকী ছবিঃ শিক্ষা মন্ত্রণালয় (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতায় বড় পরিবর্তন এনেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব পদে আবেদন করতে হলে প্রার্থীদের কমপক্ষে ১৮ বছরের শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা–২০২৫-এর সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন করে অভিজ্ঞতার শর্ত নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, কলেজের অধ্যক্ষ বা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে আবেদন করতে হলে এমপিওভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রভাষক, জ্যেষ্ঠ প্রভাষক বা সহকারী অধ্যাপক হিসেবে মোট ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। একই নিয়ম কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

এ ছাড়া বর্তমানে কর্মরত কোনো প্রধান শিক্ষক বা সহকারী প্রধান শিক্ষক যদি অধ্যক্ষ পদে আবেদন করতে চান, তবে তাদের নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি ইনডেক্সধারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কমপক্ষে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং মোট শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা ১৮ বছর পূর্ণ করতে হবে।

অন্যদিকে, ইনডেক্সধারী সহকারী প্রধান শিক্ষক বা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অধ্যক্ষ পদে আবেদন করতে চাইলে তাদের তিন বছরের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে মোট ১৮ বছরের কর্মজীবনের শর্ত পূরণ করতে হবে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, অভিজ্ঞতার সীমা বাড়ানোর ফলে ইতোমধ্যে আবেদন করা প্রার্থীদের একটি বড় অংশ এই নতুন শর্তের আওতায় পড়তে পারেন। এতে প্রায় অর্ধেক আবেদনকারী বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নতুন করে আবেদন গ্রহণ অথবা বর্তমান আবেদনকারীদের মধ্য থেকে যোগ্যদের নিয়ে পরীক্ষার আয়োজন—এ দুই বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আবেদনকারীদের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শিগগিরই পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিজ্ঞতার শর্ত বাড়ানোর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের পদে অভিজ্ঞ ও সিনিয়র শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া। কারণ কম অভিজ্ঞ শিক্ষকরা দ্রুত এসব পদে চলে এলে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রশাসনিক জটিলতা ও অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় দক্ষতা ও স্থিতিশীলতা বাড়বে। তবে তরুণ শিক্ষকদের জন্য শীর্ষ পদে পৌঁছাতে অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন