- ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পৃথক দুটি ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উভয় দলের চারজন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে একটি দোকান থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় একজন দোকানিকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ও মধ্যরাতে কালাইয়া এবং কেশবপুর ইউনিয়নে এসব উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন কালাইয়া ইউনিয়নের রায়হান (১৭), ফারুক হাওলাদার (৪৫) এবং কেশবপুর ইউনিয়নের নাইম (২৯) ও সাঈদ (৩১)। গুরুতর আহত অবস্থায় রায়হান ও ফারুক হাওলাদারকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কালাইয়া ইউনিয়নের আয়নাবাজ কালাইয়া গ্রামে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রচার মিছিল চলাকালে এক বিএনপি সমর্থকের স্লোগান দেওয়া নিয়ে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। প্রথমে কথাকাটাকাটি হলেও পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের আরও নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় একটি বিএনপির নির্বাচনি ক্যাম্পেও হামলার অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষ চলাকালে ছাত্রদল কর্মী রায়হান গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। অভিযান চালিয়ে স্থানীয় একটি দোকান থেকে দুইটি দেশীয় অস্ত্র (রামদা) উদ্ধার করা হয় এবং দোকানি সোহেলকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
একই রাতে কালাইয়া ইউনিয়নেই ফারুক হাওলাদার নামে এক জামায়াত সমর্থক মারধরের শিকার হন। জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, যুবদলের কিছু কর্মী তার ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে যুবদল নেতৃত্ব এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে মধ্যরাতে কেশবপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সাঈদ ও নাইম নামে দুই জামায়াত সমর্থককে মারধরের ঘটনা ঘটে। তারা অভিযোগ করেন, বিএনপি সমর্থকরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।