- ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় জমি দখল করে ঘর নির্মাণের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার পাটারীরহাট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বোয়ালিয়া এলাকায় আব্দুর রহিম মোল্লার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা দুজনকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজনকে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোয়ালিয়া এলাকার নুরুল ইসলামের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে আব্দুর রহিম মোল্লা ১০ শতাংশ জমি কেনার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। স্টাম্পের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যে জমিটির বায়না নির্ধারিত হয় এবং তিন লাখ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করা হয়। পরবর্তীতে দলিল রেজিস্ট্রির সময় তিনি জানতে পারেন, ওই জমি আনোয়ারা বেগমের ছেলে রাজু গোপনে অন্য এক ব্যক্তি মোসলেউদ্দিনের কাছেও বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষ কমলনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হলে কর্তৃপক্ষ তাদের পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পরামর্শ দেন। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই সোমবার ভোরে মোসলেউদ্দিন ও তার পিতা নূর ইসলাম কয়েকজন সহযোগী ও ভাড়াটে লোকজন নিয়ে ওই জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় আব্দুর রহিম ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় লোহার সাবল দিয়ে আব্দুর রহিম ও তার চাচাতো ভাই নবীর হোসেনের মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তাদের মাথায় গুরুতর জখম হয়। এছাড়া কবির হোসেন, নাসির ও ফাতেমা বেগমও আহত হন।
আহত আব্দুর রহিম জানান, তার মাথায় একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে এবং ঘটনার পর থেকে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এ ঘটনায় নূর ইসলাম, তার ছেলে রুবেল, রাজু, মন্নান ও আকবরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোসলেউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছি। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।