- ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সুনামগঞ্জ–২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শিশির মনির বলেছেন, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের সহযোগিতা চাওয়াকে তিনি সঠিক মনে করেন না। তার মতে, এটি দেশের বিচারিক সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে দিরাইয়ে নিজের নির্বাচনি কার্যালয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শিশির মনির বলেন, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড একটি স্বতন্ত্র ও ব্যক্তিগত হত্যাকাণ্ড। এমন একটি মামলার বিচার যদি দেশের নিজস্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার ব্যবস্থা করতে না পারে এবং এজন্য তৃতীয় পক্ষের সহায়তা প্রয়োজন হয়, তাহলে তা রাষ্ট্রের দুর্বলতারই প্রতিফলন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই মামলার প্রয়োজনীয় প্রমাণ দ্রুতই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার মধ্যেই একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করার সক্ষমতা থাকা উচিত। অন্যথায় তা দেশের জন্য ইতিবাচক কোনো বার্তা বহন করে না।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে শিশির মনির বলেন, নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচিকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করেন না। তার মতে, এ ধরনের কর্মসূচি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা বলপ্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, যেকোনো মতবিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে শক্তি প্রয়োগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব না হলে একাধিক দফায় সংলাপ হওয়া উচিত, কিন্তু শারীরিক নির্যাতন কখনোই গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি নয়।
শিশির মনির আরও মন্তব্য করেন, ঘটনার দিনকার পরিস্থিতি দেখে মনে হয়েছে ৫ আগস্টের পরও পুলিশের আচরণে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, জনগণকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আধুনিক ও সমন্বিত কৌশল প্রয়োগ করা প্রয়োজন, শারীরিক শক্তি ব্যবহার করে জনগণকে দমন করা কোনোভাবেই কার্যকর বা যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না।