Wednesday, June 10, 2026

বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি আইআরজিসির


ছবিঃ ড্রোন থেকে তোলা ছবিতে সিরিয়ার দামেস্কের নিকটবর্তী গ্রামাঞ্চলে সামরিক প্রকৌশল দলের সদস্যদের কাজ করতে দেখা যাচ্ছে (সংগৃহীত । আল জাজিরা/খলিল আশাউই/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এ হামলা মার্কিন বাহিনীর ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় অভিযানের জবাবে করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

বুধবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে এবং জর্ডানের আজরাক ঘাঁটিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করা হয়।

সংস্থাটি আরও দাবি করে, মোট ২১টি মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে এবং এর মধ্যে চারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে জর্ডানের একটি ঘাঁটিতে থাকা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গারও রয়েছে। এছাড়া ইরানের জ্যাম এলাকায় মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার কথাও জানানো হয়।

অন্যদিকে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে। এতে কোনো হতাহত না হলেও কিছু স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়।

হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতে বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বাজানো হয়। কুয়েতি সামরিক বাহিনী জানায়, তারা আকাশে “শত্রুতাপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু” প্রতিহত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাকে আরও গভীর করেছে। ওয়াশিংটনের থিঙ্কট্যাঙ্ক কুইন্সি ইনস্টিটিউটের এক বিশেষজ্ঞ বলেন, ইরান দ্রুত ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন প্রতিরোধ কৌশল গ্রহণ করছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো হামলা হলে তা সহজে সহ্য করা না হয়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালীর কাছে কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দুই দেশই সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে না গেলেও পরিস্থিতি ক্রমশ অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনও জটিল রয়ে গেছে।

এদিকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন