- ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। বগুড়া
বাংলাদেশ বর্তমানে গুরুতর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা জ্বালানি সংকটে দেশের শিল্পখাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ ছয় মাসেও সরকার এ সংকট মোকাবিলায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বগুড়া সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প। এই খাতের সংগঠন বিজিএমইএ সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানিয়েছে, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় অনেক কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। উৎপাদন কমে গেলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে এবং ঋণখেলাপির সংখ্যা বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধীদলের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সরকার সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। সংকটের কার্যকর সমাধান না হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলোকে লংমার্চের মতো কর্মসূচিতে যেতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল। বিরোধীদল সরকারকে সহযোগিতা করতে চাইলেও শুরুতে সরকার বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, তারা রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। গণভোটের বিষয়ে জনগণ তাদের মতামত জানিয়েছে এবং সেই রায়ের প্রতি সম্মান দেখানো সবার দায়িত্ব।
তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া রায় অমান্য বা অবজ্ঞা করার সুযোগ কারও নেই। জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান করার কোনো বিকল্প নেই।
বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের ক্ষেত্রে বগুড়া গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। একসময় বগুড়াকে ‘মিনি শিল্পনগরী’ হিসেবে পরিচিত করা হলেও স্বাধীনতার পর প্রত্যাশিত মাত্রায় শিল্পায়ন এখানে গড়ে ওঠেনি।
বগুড়ার দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ অঞ্চল তার ন্যায্য উন্নয়ন থেকে কেন বঞ্চিত হয়েছে তা তিনি জানেন না। বগুড়াকে তার প্রাপ্য অধিকার ও উন্নয়নের সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।