Friday, September 11, 2026

ভারতের সঙ্গে করা ১০১ এমওইউ-চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ


ছবিঃ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা

ভারতের সঙ্গে বিগত সরকারের সময়ে করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির বিষয়ে পর্যালোচনার ফলাফল শিগগিরই জানানো হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারদলীয় অন্যান্য হুইপও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হয়।

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের চুক্তির আওতায় ভারতের জাহাজ চলাচল এবং ওই চুক্তি বাতিলের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে চিফ হুইপ বলেন, ভারতের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় ১০১টি এমওইউও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পর্যালোচনার ফল দ্রুতই প্রকাশ করা হবে।

চিফ হুইপ জানান, সংসদের তৃতীয় অধিবেশন মোট নয় কার্যদিবস চলেছে। এ সময়ে ছয়টি বিল উত্থাপন ও পাস হয়েছে। সংসদে বিভিন্ন বিধির আওতায় মোট ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টি প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।

সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের ব্যবধানে সংসদের অধিবেশন বসে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তী অধিবেশনও একই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত হবে।

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে ১৮(ক) ধারা যুক্ত করা এবং পরে সমালোচনার মুখে তা বাদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নূরুল ইসলাম বলেন, সরকার দেশের আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই ওই উদ্যোগ নিয়েছিল। পরে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আগ্রহ না থাকায় ধারাটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্য ও সভাপতির পদ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, অতীতে বিরোধী দল থেকে স্থায়ী কমিটির সভাপতি করার দৃষ্টান্ত খুব বেশি নেই। তবে সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতির দায়িত্ব বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের জবাবদিহির ক্ষেত্রে সরকারি হিসাব কমিটির গুরুত্ব অনেক বেশি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের ব্যয়ের বিষয়ে এই কমিটির কাছে জবাবদিহি করতে হয়।

নূরুল ইসলাম জানান, মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত ৩৯টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ২৪টিতে বিরোধী দলের সদস্য রাখা হয়েছে। সংসদে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বের অনুপাতে এটি তুলনামূলকভাবে বেশি। ২২টি কমিটিতে বিরোধী দলের তিনজন করে এবং অন্য কমিটিগুলোতে দুজন করে সদস্য রাখা হয়েছে।

তৃতীয় অধিবেশনে পাস হওয়া ছয়টি বিলের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনীকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন চিফ হুইপ। তাঁর ভাষ্য, নতুন বিধানের মাধ্যমে সন্তানকে জীবদ্দশায় সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করার পরও মা-বাবার ওই সম্পত্তি ভোগের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মা-বাবা সন্তানকে সম্পত্তি দেওয়ার পর বয়স বাড়লে তাদের ভরণপোষণ বন্ধ হয়ে যায় কিংবা বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে হয়। নতুন আইনের মাধ্যমে জীবিত অবস্থায় মা-বাবার সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য।

এ অধিবেশনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল পাস হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব আইন তৈরির আগে বিভিন্ন অংশীজন, আইনজীবী, বিচারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের মতামত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৬ জন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও আলোচনা করে পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল বলে জানান চিফ হুইপ।

তিনি বলেন, অধ্যাদেশে শাস্তির যে সীমা ছিল, পাস হওয়া আইনে তা আরও কঠোর করা হয়েছে। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।

বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও জানান চিফ হুইপ। তবে এটি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নূরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশীসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে বাংলাদেশের স্বার্থ যেসব দেশের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত, তাদের সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সম্মানের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে।

বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বিপরীতে গত পাঁচ মাসে ২০৫ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, এই অর্থ জনগণের করের টাকা। তাই সরকারি অর্থের অপচয় রোধে বর্তমান সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে উৎপাদন বাড়াতে সাধারণত দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। ফলে চাইলেই অল্প সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়।

বিগত সরকারের বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে নূরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও কিছু প্রতিষ্ঠানকে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে। এতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ খাতে দায়মুক্তির বিধানও বাতিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার বলে মন্তব্য করেছেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, সরকার সনদের প্রতিটি বিষয় বাস্তবায়ন করবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো অংশ বাদ দেওয়ার প্রশ্ন নেই।

নূরুল ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে। সংবিধান সংশোধন ছাড়া সংস্কারের বিষয়গুলো কার্যকর করার সুযোগ নেই। বিরোধী পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধন আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হলেও সংস্কার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতেই হবে।

বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালে প্রণীত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে সংশোধনের নজির রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশেও সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন